চূড়ান্ত রিপোর্টে সম্ভবত পাইলটদের (Pilot) জন্য নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ থাকবে। দুর্ঘটনার পরে নানা তত্ত্ব উঠে এলেও শেষে তদন্তকারীরা নজর দেন ককপিটের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের দিকেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad plane crash) তদন্তে নয়া মোড়। ইতালির এক দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই দুর্ঘটনা কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে। যদিও ভারতের বেসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
গত বছর জুনে আমদাবাদ থেকে উড়ানের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি ভেঙে পড়ে (Air India Boeing 787 Dreamliner)। বিমানে থাকা ২৬০ জন প্রাণ হারান। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান একজন যাত্রী।
ইতালির রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে বিমানের ইঞ্জিন ফুয়েল কাট অফ কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়নি (Air India crash investigation)। বরং ককপিটের ভিতরে কেউ ইচ্ছেকৃতভাবে ফুয়েল সুইচ বন্ধ করে দিয়েছেন। তদন্তে সাহায্যকারী মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও এটিকে 'বড় অগ্রগতি' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে এএআইবি-র (AAIB) প্রাথমিক রিপোর্টেও ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ে দুই পাইলটের শেষ কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে। সেখানে এক পাইলটকে বলতে শোনা যায়, “Why did you cut off the fuel?” (তুমি ফুয়েল সুইচ বন্ধ করলে কেন?)আরেকজনের উত্তর, “I did not do so.” (আমি বন্ধ করিনি)। এই কথোপকথনের ভিত্তিতেই সন্দেহ তৈরি হয় যে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়া যান্ত্রিক গোলযোগ নয়, কেউ ইচ্ছাকৃত এই কাজ করেছেন।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়াল কিংবা কো পাইলট ক্লাইভ কুন্দরের মধ্যে কেউ একজন ওই সুইচ বন্ধ করেছিলেন (pilot action suspicion)। ইতালির পত্রিকার দাবি, প্রাথমিকভাবে সুমিত সবরওয়ালের উপরই সন্দেহ বেশি, কারণ দুর্ঘটনার এক মাস পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আসে। যদিও সুমিতের পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাঁর বাবা দাবি করেছেন, 'পাইলট হিসেবে তাঁর ছেলে অত্যন্ত দায়িত্ববান ছিলেন, মানসিক সমস্যার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যে।'
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত রিপোর্টে সম্ভবত পাইলটদের (Pilot) জন্য নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ থাকবে। দুর্ঘটনার পরে নানা তত্ত্ব উঠে এলেও শেষে তদন্তকারীরা নজর দেন ককপিটের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের দিকেই। ব্ল্যাক বক্সের ডেটাও দেখায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানের দুটি ইঞ্জিনই বন্ধ ছিল, আর তা হয়েছিল ম্যানুয়ালি। তবে তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। তবে DGCA চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না করা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তই নিশ্চিত নয়।