তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি সাধারণ পাইরেসি নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া এড়িয়ে বইটি ছড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় ডিজিটাল ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 08:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের (Ex Army Chief MM Naravane) অপ্রকাশিত বই - Four Stars of Destiny ঘিরে বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। এবার বই ফাঁসের অভিযোগে বহু দেশ জুড়ে তদন্ত শুরু করল দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল (Delhi Police)। সূত্রের দাবি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই বইটি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বাজারে (International Digital Market) পৌঁছে গিয়েছিল।
গত মঙ্গলবার এই ঘটনায় ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের ধারায় এফআইআর (Delhi Police FIR) দায়ের হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসে, যখন প্রশ্ন ওঠে - অপ্রকাশিত একটি বই কীভাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) হাতে পৌঁছল। এক সপ্তাহ আগে সংসদে তিনি এই বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেন, যার পরেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি সাধারণ পাইরেসি নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া এড়িয়ে বইটি ছড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় ডিজিটাল ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, সরকারি ছাড়পত্রের আগেই এই দেশগুলির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বইটি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল।
প্রকাশক পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া (Penguin India) স্পষ্ট জানিয়েছে, বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি এবং অনুমোদিত কোনও কপিও বাজারে আসেনি। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ফাঁস হওয়া সংস্করণে একটি আইএসবিএন নম্বর ছিল। ১৩ অঙ্কের এই আন্তর্জাতিক মানের নম্বর বাণিজ্যিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। পুলিশ সূত্রের মতে, আইএসবিএন থাকায় বোঝা যাচ্ছে এটি খসড়া পাণ্ডুলিপি নয়, বরং প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত সংস্করণ।
প্রথম আপলোডের সূত্র মিলেছে '.io' ডোমেইন-যুক্ত একটি ওয়েবসাইটে, যা মূলত ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরির কান্ট্রি কোড হলেও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়। পরে সেই কনটেন্ট একাধিক হোস্টিং প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে এখন আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য বিদেশি সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এক কর্তার কথায়, সরকারি ছাড়পত্রের আগেই বইটি বিদেশি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে কারা যুক্ত ছিলেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।