রাহুল গান্ধী ২০২৩ সালের একটি টুইটের উল্লেখ করেন, যেখানে নারাভানে নিজেই তাঁর বইয়ের প্রচার করেছিলেন বলে দাবি বিরোধী নেতার। রাহুলের বক্তব্য, ওই পোস্টে বইয়ের লিঙ্ক অনুসরণ করার কথাও লেখা ছিল। তাঁর প্রশ্ন, যদি বইটি আদৌ প্রকাশিত না হয়ে থাকে, তবে সেই প্রচার কীভাবে সম্ভব?

এমএম নারাভানে এবং রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 10 February 2026 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের (Ex Army Chief MM Naravane) অপ্রকাশিত বই ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’ (Four Stars Of Destiny) ঘিরে বিতর্ক নতুন মোড় নিল। মঙ্গলবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বললেন - এই বিষয়ে কে সত্যি বলছে, সেটাই দেখতে হবে।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, দুই পক্ষের একজন ভুল তথ্য দিচ্ছেন। তবে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান, তিনি প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বক্তব্যেই আস্থা রাখছেন। “হয় জেনারেল নারাভানে মিথ্যে বলছেন, নয়তো পেঙ্গুইন মিথ্যে বলছে। তবে আমি বিশ্বাস করি না, দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান মিথ্যে বলতে পারেন,” বলেন রাহুল। তাঁর দাবি, ওই বইতে এমন কিছু মন্তব্য রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অস্বস্তিকর।
এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী ২০২৩ সালের একটি টুইটের উল্লেখ করেন, যেখানে নারাভানে (MM Naravane) নিজেই তাঁর বইয়ের প্রচার করেছিলেন বলে দাবি বিরোধী নেতার। রাহুলের বক্তব্য, ওই পোস্টে বইয়ের লিঙ্ক অনুসরণ করার কথাও লেখা ছিল। তাঁর প্রশ্ন, যদি বইটি আদৌ প্রকাশিত না হয়ে থাকে, তবে সেই প্রচার কীভাবে সম্ভব? রাহুল আরও দাবি করেন, বইটি অনলাইন বিপণন সংস্থা অ্যামাজনে পাওয়া যাচ্ছে বলেও তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে। সেই কারণেই তিনি পেঙ্গুইনের ব্যাখ্যার তুলনায় নারাভানের বক্তব্যকেই বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছেন।
এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (Penguin Random House India) তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’ বইটির একমাত্র প্রকাশস্বত্ব তাদের হাতে রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও মাধ্যমেই বইটি প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশকের দাবি, মুদ্রিত বা ডিজিটাল - কোনও ফরম্যাটেই বইটি জনসমক্ষে আনা হয়নি।
সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, বইটির অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির কিছু অংশ ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি আইনি এবং রাজনৈতিক - দু’দিক থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের স্পেশ্যাল সেল খতিয়ে দেখছে, কীভাবে অনুমোদন না-পাওয়া একটি পান্ডুলিপির অংশ প্রকাশ্যে এল এবং এর পিছনে কোনও অননুমোদিত বিতরণ বা তথ্যফাঁস রয়েছে কিনা।
পেঙ্গুইন তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে যদি কোনও সম্পূর্ণ বা আংশিক সংস্করণ কোথাও পাওয়া যায় - পিডিএফ, অনলাইন লিঙ্ক বা অন্য কোনও মাধ্যমে - তা কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল। এই ধরনের বিতরণ বন্ধ করতে আইনি পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত সংস্থা।
সব মিলিয়ে, একটি অপ্রকাশিত বই ঘিরে এখন প্রকাশনা স্বত্ব, রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। কার বক্তব্য সত্য - প্রাক্তন সেনাপ্রধানের না প্রকাশকের, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই, আর ততদিন এই বিতর্ক যে থামছে না, তা বলাই বাহুল্য।