অভিযোগ ওঠে, বইটির অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির কিছু অংশ ডিজিটাল ও অন্যান্য মাধ্যমে ঘুরছে। সেই অভিযোগ ঘিরেই বিষয়টি শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক বিতর্কেও রূপ নেয়। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
.jpeg.webp)
এমএম নারাভানে
শেষ আপডেট: 10 February 2026 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের (Ex Army Chief MM Naravane) ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’ - যে বইটি (Four Stars Of Destiny) এখনও প্রকাশই হয়নি, তা নিয়েই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক। এই আবহে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন ব়্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (Penguin Random House India) স্পষ্ট জানাল, বইটির একমাত্র প্রকাশস্বত্ব তাদেরই হাতে রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও মাধ্যমেই ওই বই প্রকাশিত হয়নি।
সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, বইটির অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির কিছু অংশ ডিজিটাল ও অন্যান্য মাধ্যমে ঘুরছে। সেই অভিযোগ ঘিরেই বিষয়টি শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক বিতর্কেও রূপ নেয়। দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অনুমোদন না-পাওয়া একটি প্রকাশনার উপাদান কীভাবে বাইরে এল, সেই সম্ভাব্য ‘লিক’ বা অননুমোদিত বিতরণের দিকটি খতিয়ে দেখছে স্পেশ্যাল সেল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (Penguin Random House India) জানায়, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বইটির কপি ছড়িয়ে পড়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, বইটি এখনও প্রকাশনার পর্যায়ে পৌঁছয়নি এবং মুদ্রিত বা ডিজিটাল - কোনও ফর্ম্যাটেই তা জনসমক্ষে আনা হয়নি।
প্রকাশক আরও স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে যদি কোনও সম্পূর্ণ বা আংশিক সংস্করণ কোথাও পাওয়া যায়, তা সরাসরি কপিরাইট লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। এমনকি পিডিএফ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে থাকা কোনও কপিকেও তারা অননুমোদিত বলে গণ্য করছে। বিষয়টি বন্ধ করতে আইনি পদক্ষেপের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থা।
এই বিতর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে সংসদের অন্দরে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) গত সপ্তাহে সংসদ চত্বরে একটি বই দেখিয়ে দাবি করেন, সেটি জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ের কপি। লোকসভায় তিনি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই ওই বইয়ের অংশ উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন, কিন্তু বইটি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত নয় - এই যুক্তিতে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়।
সম্প্রতি সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী ফের বলেন, সরকার ও স্পিকার দাবি করছেন বইটির অস্তিত্ব নেই। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণদের জানা উচিত যে এই বই লেখা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০২০ সালের লাদাখে ভারত-চিন সংঘর্ষের সময়কার ঘটনাবলি বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই লোকসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য রাহুল গান্ধীকে ওই বইয়ের লেখা উদ্ধৃত করে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়। তার জেরে ‘অশালীন আচরণ’-এর অভিযোগে আট জন সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। তাঁদের মধ্যে সাত জন কংগ্রেস এবং এক জন সিপিআই(এম)-এর সাংসদ।
পরবর্তীতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি লিখে তীব্র প্রতিবাদ জানান রাহুল গান্ধী। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে না দেওয়া গণতন্ত্রের পক্ষে কলঙ্ক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কীভাবে অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির অংশ প্রকাশ্যে এল, তা নিয়েই এখন মূলত অনুসন্ধান চলছে। প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া তাদের অবস্থানে অনড় - ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’ এখনও প্রকাশিত নয় এবং প্রকাশিত যে কোনও কপি সম্পূর্ণ বেআইনি।