মুহূর্তের মধ্যে সতর্কতা জারি হয়। যাত্রীদের দ্রুত নামিয়ে আনা হয় এবং আলাদা আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটিকে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে রেখে শুরু হয় তল্লাশি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা CISF-এর বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকল বিভাগের আধিকারিকরাও উপস্থিত থেকে পুরো বিমান পরীক্ষা করেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 February 2026 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকালে দমদম বিমানবন্দরে (Kolkata Airport) চাঞ্চল্য। শিলংগামী একটি ইন্ডিগো বিমানের (Indigo Flight) শৌচালয় থেকে উদ্ধার হল বোমা-হুমকির চিরকুট (Threat Note)। উড়ানের নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে এই ঘটনা সামনে আসতেই তৎপর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তড়িঘড়ি বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় সমস্ত যাত্রীকে। শুরু হয় তল্লাশি।
কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ইন্ডিগোর একটি উড়ান শিলংয়ের উদ্দেশে (Kolkata Shillong Flight) রওনা দেওয়ার কথা ছিল। বোর্ডিং প্রায় সম্পূর্ণ। সেই সময় বিমানের শৌচালয়ে একটি কাগজ পড়ে থাকতে দেখেন কর্মীরা। তাতে লেখা - বিমানে বোমা রাখা হয়েছে, গোটা বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়া হবে।
মুহূর্তের মধ্যে সতর্কতা জারি হয়। যাত্রীদের দ্রুত নামিয়ে আনা হয় এবং আলাদা আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটিকে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে রেখে শুরু হয় তল্লাশি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা CISF-এর বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকল বিভাগের আধিকারিকরাও উপস্থিত থেকে পুরো বিমান পরীক্ষা করেন।
তল্লাশি চলায় নির্ধারিত সময়ে উড়ানটি ছাড়তে পারেনি। এখনও পর্যন্ত বিমানে কোনও বিস্ফোরক মেলেনি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চালু ছিল। কে বা কারা এই হুমকি-চিরকুট রেখে গেল, তা স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিষয়টি তদন্ত করছেন।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। অনেকেই জানিয়েছেন, আকস্মিকভাবে নামিয়ে দেওয়ায় প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। এরপর যখন বোমা-হুমকির কথা জানানো হয়, তখন উদ্বেগ বাড়ে। বিকল্প উড়ানের ঘোষণা করা হয়নি বলেও অভিযোগ যাত্রীদের একাংশের।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে বারবার বোমা-হুমকির খবর সামনে এসেছে। কখনও আন্তর্জাতিক উড়ান, কখনও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট - নানা মাধ্যমে হুমকি বার্তা পাওয়া গিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ভুয়ো প্রমাণিত হলেও, প্রতিবারই নিরাপত্তা বিধি মেনে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
দমদমের এই ঘটনাও সেই প্রেক্ষিতেই উদ্বেগ বাড়াল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বলছে, হুমকি সত্যি হোক বা ভুয়ো - প্রতিটি বার্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। কারণ সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এখন নজর তদন্তের দিকে। চিরকুটের লেখার ধরন, কাগজের উৎস, সিসিটিভি ফুটেজ - সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত বিমানবন্দরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রথম লক্ষ্য।