গড়িয়াহাট মোড় থেকে কসবা থানার দিকে এগোতে চেয়েছিল বিজেপির মিছিল। কিন্তু আগে থেকেই পুলিশ গড়িয়াহাট মোড়ে বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা আটকে দেয়।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 29 June 2025 21:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার ল’ কলেজে আইন বিভাগের এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতা। রবিবার বিজেপি-র যুব মোর্চার পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’-য় নেতৃত্ব দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল গড়িয়া মোড় পর্যন্ত যায়, মশাল হাতে প্রতিবাদে সামিল হন বহু দলীয় কর্মী-সমর্থক।
গড়িয়াহাট মোড়ে এসে শুভেন্দু অধিকারী একটি ম্যাটাডোরের উপরে উঠে বক্তৃতা দেন। এক হাতে মশাল, অন্য হাতে প্ল্যাকার্ড — তাতে লেখা ‘ছি: মমতা’। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে কন্যারা আজ নিরাপদ নয়। ল’ কলেজের ঘটনা তার প্রমাণ। আমরা এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় থাকব।’

গড়িয়াহাট মোড়ে পৌঁছালে, সেখান থেকে কসবা থানার দিকে এগোতে চেয়েছিল বিজেপির মিছিল। কিন্তু আগে থেকেই পুলিশ গড়িয়াহাট মোড়ে বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা আটকে দেয়। বালিগঞ্জের দিক থেকে কসবা ল’ কলেজের দিকে যাতে যাওয়া না যায়, তা নিশ্চিত করে কলকাতা পুলিশ। ফলে, গড়িয়াহাটেই থমকে যায় মিছিল।

গড়িয়াহাটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, ‘আগামী ২ জুলাই কসবা থানা অভিযানের ডাক দিচ্ছি বিজেপির যুব মোর্চার পক্ষ থেকে। যদি পুলিশ অনুমতি না দেয়, আমরা হাইকোর্টে যাব। কন্যা সুরক্ষা যাত্রা আদালতের অনুমতি নিয়েই হবে।’
এই বক্তব্যে তিনি নাম করেও হুঁশিয়ারি দেন কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। বলেন, ‘মনোজ ভার্মা, বিনীত গোয়েল, রাজীব কুমার — কেউ আমাদের আটকালে আইনত পদক্ষেপ নেব।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে শুভেন্দু বলেন, ‘গত বছর ৯ আগস্ট আরজি করেছিল অভয়া, মেডিক্যাল পড়ুয়া। আজও বিচারহীন এক বছর পেরিয়ে গেল। সেই দিনটিকে নবান্ন অভিযান হিসাবে পালন করতে অনুরোধ করব অভয়ার মা-বাবাকে।’
তিনি জানান, ‘আগামিকাল বা পরশুর মধ্যে আমরা অভয়ার পরিবারকে অনুরোধ করব ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিতে। দলমত নির্বিশেষে এই আহ্বান জানাচ্ছি গোটা বাংলাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৬-এ মমতাকে সরিয়ে দিতে হবে নবান্ন থেকে। অভয়ার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিজেপির আন্দোলন চলবে। কসবা ল কলেজের ছাত্রীর গণধর্ষণ হোক বা অভয়ার মৃত্যু — আমরা হার মানব না।’
এদিন শুভেন্দু স্পষ্ট ঘোষণা করেন, ‘পরবর্তী এক সপ্তাহ ধরে এই ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’ চলবে রাজ্যজুড়ে। কন্যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রাজ্য সরকারকে ঘুমোতে দেব না।’