বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ডেকরেটার্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস গ্রেফতার হলেও মোমো কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, “কর্মচারী ও গুদাম মালিককে ধরা হলে মোমো সংস্থার মালিককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?”

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 30 January 2026 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire Incident) ঘটনার পর জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে আদালতের নির্দেশিত পথে শুক্রবার মিছিল করেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির বিধায়ক ও নেতারা। মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি হাতে নিয়ে হাঁটতে দেখা যায় শুভেন্দুকে - আর তা ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।
শুভেন্দুর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে সাঁটানো ছবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে (Mamata Banerjee) বিদেশের এক রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে লেখা - ‘ছবি কথা বলে’। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনিই সেই মোমো সংস্থার মালিক (Wow Momo Factory) যার গুদাম সংলগ্ন এলাকার অগ্নিকাণ্ডে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ডেকরেটার্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস গ্রেফতার হলেও মোমো কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, “কর্মচারী ও গুদাম মালিককে ধরা হলে মোমো সংস্থার মালিককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?”
শুক্রবার পুলিশ মোমো কারখানার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে। ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে আগুন লাগার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মনোরঞ্জন শিট ওই গুদামের দায়িত্বে ছিলেন।
শুক্রবার নাজিরাবাদের ঘটনায় পাঁচ দফা দাবি তুলে মিছিল করেন শুভেন্দু। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে -
দখল হওয়া জলাভূমির তালিকা প্রকাশ
অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজদের খোঁজ
মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ
পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি
ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতারি
বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে না যাওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ১০ কিলোমিটারের মধ্যেই, তবু তিনি সেখানে যাননি। শুভেন্দুর অভিযোগ, “ক্ষতিগ্রস্তরা তাঁর ভোটব্যাঙ্ক নয় বলেই তিনি রাজধর্ম পালন করেননি।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা এবং নজরদারির ঘাটতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। পাশাপাশি, তাঁর অভিযোগ, তাঁকে আটকানোর উদ্দেশ্যেই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, ফরেন্সিক ও দমকলের প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের উৎস নিয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমে আলোচনায় থাকলেও তদন্তে জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল ডেকরেটর্সের গুদাম থেকে। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন মোমো গুদামে। তদন্তে উঠে এসেছে, গোডাউনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এই ত্রুটির কারণেই গুদাম মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।