পুলিশের ভূমিকা নিয়েও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট বলেছেন - যা হয়েছে তার জন্য পুলিশও দায়ী। কেন অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক থাকবে না, কেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা দায় তাদের নিতেই হবে। আর ১৬৩ ধারা প্রসঙ্গে শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁকে আটকানোর জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে যাতে সত্যিটা সামনে না আসে।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 29 January 2026 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire Incident) পর তদন্ত ও উদ্ধারকাজে বিঘ্ন এড়াতে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। নাজিরাবাদ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবারই ওই এলাকায় হাইকোর্টের (Calcutta High Court) অনুমতি নিয়ে মিছিল করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর আনন্দপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে ফের কড়া নিন্দা করেছেন রাজ্য সরকারের।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গেছিলেন সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস থেকে মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই বিষয়টিকে সামনে এনে সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ''ঘটনাস্থল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। তবুও তিনি আসেননি। আসলে মমতা রাজধর্ম পালন করেননি। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা হয় তাঁর ভোটব্যাঙ্ক নয় অথবা বিশেষ সম্প্রদায়ের নয়।''
পুলিশের (WBP) ভূমিকা নিয়েও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট বলেছেন - যা হয়েছে তার জন্য পুলিশও দায়ী। কেন অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক থাকবে না, কেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা দায় তাদের নিতেই হবে। আর ১৬৩ ধারা প্রসঙ্গে শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁকে আটকানোর জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে যাতে সত্যিটা সামনে না আসে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার কারণও জানা গেছে। এর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মোমোর গুদাম (WOW Momo Factory)। ধৃত ডেকরেটর্সের মালিক গঙ্গাধর দাস দাবি করছিলেন, আগুন মোমোর গুদাম থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে ফরেন্সিক ও দমকলের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গেছে, প্রকৃত আগুনের উৎস ছিল ডেকরেটর্সের গুদামই। ওই গুদামের পশ্চিম দিকে তিন তলা বিশিষ্ট অংশ থেকে আগুন ছড়াতে ছড়াতে পুরো ডেকরেটর্স এবং মোমোর গুদাম গ্রাস করে নেয়।
গঙ্গাধরের ‘দখলে’ থাকা গোডাউনের আয়তন ছিল ৩৫ হাজার বর্গফুট। এর মধ্যে ১১ হাজার বর্গফুট মোমো কোম্পানিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। মালিক দাবি করেছিলেন, মোমো গুদামে অবৈধভাবে Co2 দিয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরির কারণে আগুন লেগেছে। তবে ফরেন্সিক রিপোর্ট সেই দাবি মিথ্যে প্রমাণ করেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, গোডাউনে যথাযথ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এই ত্রুটির জন্যই মালিক গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বুধবার সিঙ্গুরের এক সভা থেকে সেই ঘোষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়াও মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স সংস্থা ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলেও জানান তিনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়া হবে।