নির্দেশ অনুযায়ী, নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত নাজিরাবাদ এলাকায় ১০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur's Fire) পর পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। আগুনের ঘটনার তদন্ত ও উদ্ধারকাজে কোনও রকম বিঘ্ন এড়াতে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নাজিরাবাদ এলাকায় ১৬৩ ধারা ( আগে যা ১৪৪ ধারা ছিল) জারি করল বারুইপুর মহকুমা প্রশাসন (Ban on gatherings, Section 163 imposed in the state)।
নির্দেশ অনুযায়ী, নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত নাজিরাবাদ এলাকায় ১০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্রপুর থানার আইসি-র আবেদনের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রমাণ লোপাট, তদন্তে বাধা কিংবা উদ্ধারকাজে অসুবিধার আশঙ্কা রয়েছে বলেই এই নিষেধাজ্ঞা বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। সে কারণেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে প্রশাসনের এই নির্দেশ সামনে আসার পরই রাজ্যকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, "আসলে ১৬৩ ধারা জারির নামে প্রশাসন বিজেপিকে আটকাতে চাইছে। ওরা আমাদের ভয় পাচ্ছে। পাছে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়, প্রকৃত সত্য সামনে চলে আসে, তাই তথ্য ধামাচাপা দিতে প্রশাসনের এই সক্রিয়তা।"
বারুইপুরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ পাঠক জারি করা নির্দেশে উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিচার করেই এই জরুরি ব্যবস্থা। ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৫টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং তা চলবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম বহাল থাকবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়, কৌতূহলী মানুষের জমায়েত এবং রাজনৈতিক তরজার আশঙ্কার মধ্যেই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তবে ঘটনাস্থলের চিত্র এখনও ভয়াবহ। দগ্ধ গোডাউন থেকে তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট ১৬টি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় নিখোঁজের সংখ্যা ২৩—ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। আপাতত ছাই থেকে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অভিযোগ, তাঁর গোডাউনে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।