আইনজীবীর যুক্তি, কী ভাবে একই ঘটনায় ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’ এবং ‘খুনের চেষ্টা’—এই দুই ধারা একসঙ্গে প্রয়োগ করা হল?

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 19:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে (Anandpur fire case) ধৃত গুদাম-মালিক গঙ্গাধর দাসের আইনজীবীর একের পর এক প্রশ্নে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল আদালত চত্বর (courtroom)।
এদিন মামলার শুনানিতে গঙ্গাধরের আইনজীবী একাধিক প্রশ্ন তোলেন। বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ধৃতের আইনজীবীর বক্তব্য, দেশে একের পর এক বিমান দুর্ঘটনা (Plane Crash) ঘটলেও কোথাও বিমান সংস্থা বা বিমানের মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি। তা হলে শুধুমাত্র সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার কারণেই কী ভাবে মালিককে দায়ী করা হচ্ছে? এই যুক্তিতে যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়, এমনকি পাসপোর্ট জমা রাখার কথাও বলা হয়।
এখানেই না থেমে এদিন বারুইপুর মহকুমা আদালতে এই প্রশ্নও ওঠে, ভাড়াটের কাজের দায়ে সম্পত্তির মালিককে গ্রেফতার করা হবে কেন?
ধৃত গঙ্গাধরের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা জানান, গঙ্গাধরের বয়স প্রায় ৭২ বছর। তিনি একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ৫০০–৬০০ জন মানুষ। তাঁদের জীবিকা সরাসরি নির্ভর করে গঙ্গাধরের উপর। তাঁর তৈরি স্কুল ও কলেজের কথাও তুলে ধরা হয় আদালতে। আইনজীবীর বক্তব্য, এমন একজনকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সীমানা নির্ধারণ জরুরি।
আদালতে জানানো হয়, গঙ্গাধর ২০১৬ সাল থেকে ওই প্রাঙ্গণের বৈধ ‘হোল্ডার’ হলেও ২০২৩ সাল থেকে আনন্দপুরের গুদামটি ভাড়ায় দেওয়া হয়েছিল। ভাড়ার চুক্তিতে স্পষ্ট শর্ত ছিল—কোনও দাহ্য বা বিপজ্জনক পদার্থ মজুত করা যাবে না। আইনজীবীর প্রশ্ন, ভাড়াটেরা যদি সেই শর্ত লঙ্ঘন করেন, তা হলে তার দায় কী ভাবে মালিকের উপর বর্তায়? গুদামের ভিতরে কী কাজ চলছিল বা কী সামগ্রী রাখা হচ্ছিল, সে বিষয়ে মালিকপক্ষের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলেও দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে মামলার ধারা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আইনজীবীর যুক্তি, কী ভাবে একই ঘটনায় ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’ এবং ‘খুনের চেষ্টা’—এই দুই ধারা একসঙ্গে প্রয়োগ করা হল? রিমান্ড আবেদনে অভিযুক্তকে ‘পলাতক’ বলা হয়েছে বলেও আপত্তি জানান তিনি। দাবি করা হয়, পুলিশ আগের দিন ফোন করেই পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি থানার পূর্বচড়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে ডেকে এনেছিল। প্রয়োজনে পুলিশ ও অভিযুক্তের টাওয়ার লোকেশন যাচাইয়ের আবেদনও জানানো হয়।
তবে সরকারি কৌঁসুলির বক্তব্যে ভিন্ন সুর। তিনি আদালতে জানান, আনন্দপুরের গুদামে দু’টি সংস্থা কাজ করছিল। একটি সংস্থার গুদামের সরাসরি দায়িত্বে ছিলেন অভিযুক্ত নিজেই। অন্যটি ‘গঙ্গা ফ্লোরিস্ট’, যেখানে এলপিজি সিলিন্ডার, কাপড়-সহ একাধিক দাহ্য সামগ্রী মজুত ছিল। কর্মীরা কাজ করার সময় এ ধরনের বিপজ্জনক উপকরণ কী ভাবে রাখা হচ্ছিল, তা নজরে রাখার দায়িত্ব মালিকেরই। সেই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
সব পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গঙ্গাধর দাসকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।