তবে ঘটনাস্থলের চিত্র এখনও ভয়াবহ। দগ্ধ গোডাউন থেকে তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট ১৬টি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় নিখোঁজের সংখ্যা ২৩—ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire) মৃত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা মঙ্গলবারই জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে সেই ঘোষণায় আরও একধাপ এগোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
তাঁর ঘোষণা, মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেবে রাজ্য সরকার (announces jobs for the families of the deceased, compensation of Rs 10 lakh))।
সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল আমাদের কিছু বন্ধু প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। আমি ববিকে পাঠাই, অরূপকে পাঠাই।” ক্ষতিপূরণের অঙ্কও স্পষ্ট করেন তিনি—মৃতদের পরিবার পিছু রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স কোম্পানি ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মৃতদের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে।
তবে ঘটনাস্থলের চিত্র এখনও ভয়াবহ। দগ্ধ গোডাউন থেকে তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট ১৬টি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় নিখোঁজের সংখ্যা ২৩—ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। আপাতত ছাই থেকে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অভিযোগ, তাঁর গোডাউনে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
রবিবার রাত ১টা নাগাদ আগুন লাগে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, আর প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। গোডাউনটি ঘিরে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে—জলাশয় বুজিয়ে কীভাবে এই নির্মাণ হল, কেন সেখানে ফায়ার অডিট হয়নি, প্রশাসনিক নজরদারি কোথায় ছিল?
ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর তীব্র আক্রমণ—“এখানে মৃত্যু নয়, খুন হয়েছে। গরিব মানুষের মৃত্যুর দাম ৫–১০ লক্ষ টাকায় নির্ধারণ করা হচ্ছে। শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।” তাঁর দাবি, এত বড় বেআইনি কারবার কীভাবে চলল, কার অনুমতিতে—তার জবাব দিতে হবে প্রশাসনকে। অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবিও তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করেছেন। পরিস্থিতির জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন তিনি।