“চিন্তা করে শরীর খারাপ করবেন না। আত্মহত্যা করবেন না। এটা বাংলা। ডাকছে ডাকুক— যাবেন। এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। ওরা অহঙ্কার দেখাচ্ছে। এই অহঙ্কার ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করব।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুর (Singur) থেকেই শুরু হয়েছিল ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতনের পথচলা। সেই সিঙ্গুরের ‘পুণ্য ভূমি’ ছুঁয়েই এবার বাংলার মাটিতে বিজেপিকে (BJP) রুখে দেওয়ার শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে জনতার উদ্দেশে স্পষ্ট ঘোষণা, “বিজেপিকে বাংলার মাটিতে ঢুকতে দেব না।”
এদিন সিঙ্গুরের মাটি থেকে ৪১ মিনিটের বক্তব্যের বেশিরভাগ সময়ই মমতার কণ্ঠে ছিল হুঁশিয়ারি-কটাক্ষ, “একবার ১০ হাজার টাকা, আর ইলেকশনের পরেই বুলডোজার— এই হচ্ছে ওদের নীতি।”
একই সঙ্গে এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণের সুর আরও চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলে তিনি যে চুপ করে থাকবেন না, তা স্পষ্ট করে বলেন। নাটকীয় ভঙ্গিতে তাঁর ঘোষণা, “আমাকে তোমরা ঘেঁচু করবে। জেলে ভরো, গুলি করো— আই ডোন্ট কেয়ার! আমি সব কিছুর জন্য তৈরি। আমি জেলে গেলে মায়েরা জবাব দেবে, বোনেরা জবাব দেবে। ঘরে ঘরে নাড়ু তৈরি হবে।”
এর পর খানিক থেমে জনতার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছোড়েন মুখ্যমন্ত্রী, “নাড়ুর অপোজিট কী, মিলিয়ে বলো? প্রথম অক্ষর বলে দিচ্ছি— ঝ এ-কার!” সঙ্গে সঙ্গেই মাঠজুড়ে একসঙ্গে গর্জে ওঠে উত্তর,“ঝাঁটা!”
মমতা জানান, এসআইআর নিয়ে কেন্দ্র–কমিশনের ‘চক্রান্ত’ রুখতেই সিঙ্গুরের মাটি ছুঁয়ে তিনি দিল্লি যাবেন। যদিও বুধবারই তাঁর দিল্লি সফরের কথা ছিল, কিন্তু সকালে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে সফর একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর ফের এসআইআর প্রসঙ্গে বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, “আজ না হলে কাল আমি দিল্লি যাবই। দরকার হলে কোর্টেও যাব। আইনজীবী হয়ে নয়— সাধারণ মানুষ হিসেবে। সব ডকুমেন্ট রেখে দিয়েছি। জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানাচ্ছেন!”
বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তীব্র কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর মন্তব্য, “সব ঝুট হ্যায়। পাঁচ বস্তা বই পাঠিয়েছিলাম দিল্লিতে। বাংলার জন্য রিসার্চ টিম তৈরি করেছিলাম। তবু বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেননি। আপনারা বাংলায় কথা বললে মানুষকে মারেন।”
এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে মানুষকে হয়রানি করা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “মেয়েরা বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি গেলে পদবী বদলায়, এটাই স্বাভাবিক। তা বলে সবাই বাদ? ‘হিন্দু–হিন্দু’ করে হিন্দুদের মারছে।”
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘মহিলা বিরোধী’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে জানতে চাই— আপনার স্ত্রীর টাইটেল কী? হোম মিনিস্টারের স্ত্রীর টাইটেল কী?”
একই সঙ্গে এসআইআর ইস্যুতে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চিন্তা করে শরীর খারাপ করবেন না। আত্মহত্যা করবেন না। এটা বাংলা। ডাকছে ডাকুক— যাবেন। এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। ওরা অহঙ্কার দেখাচ্ছে। এই অহঙ্কার ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করব।”