রবিবার গভীর রাত, আনুমানিক দেড়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। চারপাশ তখন প্রায় নিশ্চুপ। আচমকাই পাশের একটি ডেকরেটার্স সংস্থার গুদামে আগুন লাগে। গুদামের গা ঘেঁষেই ছিল মোমো তৈরির কারখানা।

ধৃত গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস
শেষ আপডেট: 28 January 2026 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরে ওয়াও মোমো কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire Incident) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন অথবা কাজের প্রয়োজনে কারখানা ও সংলগ্ন গুদামেই (Anandapur News) থাকতেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে (Gangadhar Das) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক গাফিলতির অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একটি গুদামে এত সংখ্যক শ্রমিক কাজ করছিলেন অথচ সেখানে আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি বাইরে বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত পথও ছিল না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
কে এই গঙ্গাধর দাস
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গাধর। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ডেকরেটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। শুরুতে জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সামাজিক কর্মসূচিতে সাজসজ্জার বরাত নিতেন। প্লাস্টিক ফুল ও সাজানোর সামগ্রী এনে কারিগরদের দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল সাজানোই ছিল তাঁর মূল কাজ।
পরবর্তী সময়ে ব্যবসার পরিধি বাড়ে। বিদেশ থেকে নানা ধরনের ডেকরেশন সামগ্রী আমদানি শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই ব্যবসা লাভজনক হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় গুদাম ও কারখানা স্থাপন করেন গঙ্গাধর। সেই গুদামই এখন অগ্নিকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।
যদিও গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ গঙ্গাধর। বরং তাঁর দাবি, মোমো কারখানার ত্রুটির কারণেই আগুন ছড়ায়। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় তিনি নিজেই সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। তবে প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই দাবি খতিয়ে দেখছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে
রবিবার গভীর রাত, আনুমানিক দেড়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। চারপাশ তখন প্রায় নিশ্চুপ। আচমকাই পাশের একটি ডেকরেটার্স সংস্থার গুদামে আগুন লাগে। গুদামের গা ঘেঁষেই ছিল মোমো তৈরির কারখানা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কারখানায়। তেল, গ্যাস এবং বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন ভয়াবহ আকার নেয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। শুরু হয় দীর্ঘ ও কঠিন উদ্ধার অভিযান। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পরেও গুদামের ভিতরের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ১১। পরে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় সরকারি হিসেবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬।