আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ওয়াও মোমোর গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মৃত বেড়ে ১৬, নিখোঁজ ২৫-৩০ জন।

গ্রাফিক্স-দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 23:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ওয়াও মোমো (Anandapur Fire) তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Wow Momo Fire) ঘটনার জেরে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৩২ ঘণ্টা কেটে গেলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গোডাউনের ভিতরের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছিল। এবার আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। সরকারি সূত্রে পাওয়া শেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬।
তবে সূত্রের দাবি, নিখোঁজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জনের মধ্যে। তাঁদের অনেকেই রাতের পাহারায় নিযুক্ত ছিলেন অথবা কারখানার মধ্যেই থাকতেন বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজ এখনও না মেলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur fire incident) ঘটনায় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে ধরেছে পুলিশ। তাঁকে বারুইপুরে জেলা পুলিশ দফতরে নিয়ে আসা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হলে আগামিকাল অর্থাৎ বুধবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে সূত্রে খবর।
সূত্রে খবর, তদন্তে নেমে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের (Narendrapur Police) একটি দল মেদিনীপুরে হানা দেয় (Anandapur fire incident)। এদিন গঙ্গাধর দাস বাড়ি থেকে বেরোতেই তাঁকে আটক করা হয়। যদিও গুদাম মালিক এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায় চাপিয়েছেন মোমো সংস্থার ঘাড়ে। জানা গেছে, যে গুদামে আগুন লেগেছে সেখানে পুরো জমিটারই মালিক ছিলেন গঙ্গাধর। মোমো কোম্পানি ডেকরেটার্সের গোডাউন লিজে নিয়েছিল।
গুদাম মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। এরম একটা গোডাউনে এতগুলি শ্রমিক কাজ করতেন, অথচ সেখানে কোনও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) নেই। বাইরে বেরোনোর পথও নেই। দমকলের তরফে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করা হবে। এরপরই এই মামলায় গঙ্গাধর দাসকে অফিসিয়ালি গ্রেফতার দেখানো হবে