আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। বারুইপুরে তাঁর বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে ধরেছে পুলিশ।

আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ড
শেষ আপডেট: 27 January 2026 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur fire incident) ঘটনায় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে ধরেছে পুলিশ। তাঁকে বারুইপুরে জেলা পুলিশ দফতরে নিয়ে আসা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হলে আগামিকাল অর্থাৎ বুধবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে সূত্রে খবর।
সূত্রে খবর, তদন্তে নেমে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের (Narendrapur Police) একটি দল মেদিনীপুরে হানা দেয় (Anandapur fire incident)। এদিন গঙ্গাধর দাস বাড়ি থেকে বেরোতেই তাঁকে আটক করা হয়। যদিও গুদাম মালিক এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায় চাপিয়েছেন মোমো সংস্থার ঘাড়ে। জানা গেছে, যে গুদামে আগুন লেগেছে সেখানে পুরো জমিটারই মালিক ছিলেন গঙ্গাধর। মোমো কোম্পানি ডেকরেটার্সের গোডাউন লিজে নিয়েছিল।
গুদাম মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। এরম একটা গোডাউনে এতগুলি শ্রমিক কাজ করতেন, অথচ সেখানে কোনও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) নেই। বাইরে বেরোনোর পথও নেই। দমকলের তরফে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করা হবে। এরপরই এই মামলায় গঙ্গাধর দাসকে অফিসিয়ালি গ্রেফতার দেখানো হবে।
আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ড
রবিবার রাত দেড়টা। চারপাশ নিস্তব্ধ। আচমকাই আগুন লাগে পাশের একটি ডেকরেটার্স সংস্থার গুদামে। গুদামের গা ঘেঁষেই ছিল মোমো তৈরির কারখানা (Momo Company)। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে তেল, গ্যাস ও বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। শুরু হয় প্রাণপণ লড়াই। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, আগুন ততই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আরও অন্তত ১৭ জন নিখোঁজ (Anandapur Incident 17 missing)। আশঙ্কা ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে, নিখোঁজদের অনেকেরই হয়তো আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে।
সেই আশঙ্কাকে আরও ভয়াল করে তুলছে উদ্ধারকারীদের অভিজ্ঞতা। অগ্নিদগ্ধ গোডাউনে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে দমকল কর্মীদের অনেকের পায়ে ঠেকছে পোড়া হাড়ের টুকরো!
সোমবার দমকল আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই গোডাউনে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে এসে সেই কথাই কার্যত স্বীকার করেন দমকলমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “প্রচুর জায়গায় প্রচুর কারখানা রয়েছে। অনেকে লাইসেন্স নিয়ে করছেন, অনেকে বেআইনিভাবে করছেন। এখনই বলতে পারব না, ওদের কাছে কী কাগজপত্র ছিল। যদি বেআইনিভাবে হয়ে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সবকিছুর মাঝেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা। তাঁদের আক্ষেপ, চরম অব্যবস্থা আর নজরদারির গাফিলতির মূল্য দিতে হল অনেকগুলো প্রাণ দিয়ে।