রাজ্যপাল স্পষ্টভাবে বলেন, এই ধরনের জায়গায় নিয়মিত ফায়ার অডিট করা এখন আর বিকল্প নয়, বরং অনিবার্য। তিনি মনে করেন, শুধু ঘটনার পর দায় ঠেলে দেওয়া বা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কোনও লাভ হয় না বরং এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 30 January 2026 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডর (Anandapur Fire Incident) ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার পরই তিনি এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhayay)।
রাজ্যপাল বলেন, কোনও দুর্ঘটনাই (Anandapur Fire) আকস্মিক নয়। প্রতিটি ঘটনার পিছনেই কোনও না কোনও কারণ থাকে। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে, বিশেষ করে জনবহুল এবং সর্বজনিক জায়গাগুলিতে। এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যপাল স্পষ্টভাবে বলেন, এই ধরনের জায়গায় নিয়মিত ফায়ার অডিট (Anandapur News) করা এখন আর বিকল্প নয়, বরং অনিবার্য। তিনি মনে করেন, শুধু ঘটনার পর দায় ঠেলে দেওয়া বা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কোনও লাভ হয় না বরং এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সি ভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose) এও জানান, উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াই প্রশাসনের দায়িত্ব। এই মুহূর্তে প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিচার করে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে।
একজন রাজ্যপাল হিসেবে তিনি গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বলেও জানান আনন্দ বোস। পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে প্রশাসনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি পরামর্শ দেবেন এবং নির্দেশও দেবেন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, প্রশাসনিক সতর্কতা এবং পূর্বপ্রস্তুতির অভাবই অনেক সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এই অগ্নিকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান রাজ্যপাল। তিনি ওই প্রশ্নের সরাসরি কোনও উত্তর দেননি।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আনন্দপুরের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৫ জনের দেহাংশ। আর এবার 'ওয়াও মোমো'র নাজিরাবাদের গোডাউনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী, ডেপুটি ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীটকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। আজ তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে।
২৭ জনের নামে নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন আত্মীয় পরিজনরা। ২৫ জনের দেহাংশ মিললেও, এখনও সেখানের যা পরিস্থিতি, বাকি দেহাংশ মানুষের নাকি কোনও পশুর, বোঝা দায়, জানাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে আরও দেহাংশ উদ্ধার হতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে গোডাউনটি আগুনে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।