এবার 'ওয়াও মোমো'র গোডাউনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী, ডেপুটি ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীটকে গ্রেফতার করল নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের (Anandapur fire incident) ওয়াও মোমো গোডাউনে (WOW Momo Factory fire) আগুন লাগার ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। আজ, শুক্রবার, সকালে ফের শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, উদ্ধার হয়েছে ২৫ জনের দেহাংশ। আর এবার 'ওয়াও মোমো'র নাজিরাবাদের গোডাউনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী, ডেপুটি ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীটকে গ্রেফতার করল নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। আজ আদালতে পেশ করা হবে।
ঠিক কী অভিযোগে গ্রেফতার?
দমকল ঘটনাস্থল দেখে জানিয়েছিল, 'ওয়াও মোমো'র ওই গোডাউনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা (fire extinguisher) যথাযথ ছিল না। নিয়মিত অডিট (regular audit) হওয়ার কথা থাকলেও সেটা আদৌ করা হত কিনা, সেই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ফলে গাফিলতির অভিযোগ এনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২৭ জনের নামে নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন আত্মীয় পরিজনরা। ২৫ জনের দেহাংশ মিললেও, এখনও সেখানের যা পরিস্থিতি, বাকি দেহাংশ মানুষের নাকি কোনও পশুর, বোঝা দায়, জানাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে আরও দেহাংশ উদ্ধার হতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গোডাউনটি আগুনে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন দেহাংশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের (DNA Mapping) কাজ শুরু হয়েছে, যা পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই ইতিমধ্যেই গোডাউনটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা, যাতে ৫ জনের বেশি সেখানে জমায়েত না হয়। তাতে প্রমাণ নষ্ট হতে পারে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার কারণও জানা গেছে। এর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মোমোর গুদাম। ধৃত ডেকরেটর্সের মালিক গঙ্গাধর দাস দাবি করছিলেন, আগুন মোমোর গুদাম থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে ফরেন্সিক ও দমকলের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গেছে, প্রকৃত আগুনের উৎস ছিল ডেকরেটর্সের গুদামই। ওই গুদামের পশ্চিম দিকে তিন তলা বিশিষ্ট অংশ থেকে আগুন ছড়াতে ছড়াতে পুরো ডেকরেটর্স এবং মোমোর গুদাম গ্রাস করে নেয়।