যদুবাবুর বাজারে অজন্তা ধাবা থেকে শুরু হয় এদিন রাম নবমীর মিছিল। দেখা যায়, মিছিলে যোগ দিয়েই গেরুয়া পাগড়ি পরে নেন বিরোধী দলনেতা। খোল কর্তাল, কীর্তনিয়া, জয় শ্রীরাম স্লোগান মায় তখন উৎসব মুখরিত চারপাশ।

রাম নবমীর মিছিলে শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 26 March 2026 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর আগে দোল পূর্ণিমাতেই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন তাঁর আস্তিনে কী লুকনো রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই ধারাবাহিকতা রেখে রাম নবমীর মিছিল থেকে ভবানীপুরে (Bhabanipur) যেন গেরুয়া রঙ ঢেলে দিতে চাইলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যদুবাবুর বাজারে অজন্তা ধাবা থেকে শুরু হয় এদিন রাম নবমীর মিছিল। দেখা যায়, মিছিলে যোগ দিয়েই গেরুয়া পাগড়ি পরে নেন বিরোধী দলনেতা। খোল কর্তাল, কীর্তনিয়া, জয় শ্রীরাম স্লোগান মায় তখন উৎসব মুখরিত চারপাশ। মিছিল এগোতে দেখা যায়, রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমেছে। বাড়ির দোতলার বারান্দায় ঝুঁকে পড়েছেন মানুষ। তা দেখে কয়েকটি বাড়িতে ঢুকেও পড়েন শুভেন্দু তথা ভবানীপুর বিধানসভায় (West Bengal Assemble Election 2026) এবারের বিজেপি প্রার্থী।

এবারের রাম নবমীতে শুভেন্দুর হাফ ডজনেরও বেশি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা। তবে প্রথমেই ভবানীপুরে রাম নবমীর শোভাযাত্রায় কেন অংশ নিলেন তা বোধগম্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হোম গ্রাউন্ড ভবানীপুরে তাঁকে পর্যুদস্ত করতে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সঙ্গে হিন্দু ভোটের মেরুকরণ ঘটানোর চেষ্টাই তাঁর মূল কৌশল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অবশ্য কলকাতায় নেই। তিনি রয়েছেন প্রচারে। বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুরে তাঁর সভা করার কথা। সেই অবসরে এদিন ভবানীপুরে রাম নবমীর শোভাযাত্রায় ঝড় তোলার চেষ্টা করেন বিরোধী দলনেতা।

রাম নবমীর মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে শুভেন্দু বলেন, “বাংলায় এবার রাম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হবে। হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ। মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যুবক যুবতীরা এই বাংলাতেই কাজ পাবেন। ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হবে না”।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়াটাই কৌশলগত। বিজেপি দেখাতে চেয়েছে বাংলার লড়াইয়ে এবার তাঁরা সিরিয়াস। আবার শুভেন্দুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র। কোনও নির্বাচনই তিনি হাল্কা ভাবে নেন না। এমনিতেই ভবানীপুরে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আগাম প্রস্তুতি রেখেছিলেনই। দল তাঁর নাম ঘোষণা করার পর থেকেই হইহই করে নেমে পড়েছেন।

ভবানীপুরে পাল্টা কৌশল নিচ্ছে তৃণমূলও। ওই এলাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের মাঠের মতই। তৃণমূল জোর দিচ্ছে জনসংযোগে। গত রবিবার দলের কর্মিসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতিটি কর্মীকে ৫টি করে ভোট বাড়াতে হবে। গত উপ নির্বাচনে ভবানীপুরে ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন দিদি। এবার টার্গেট ৬০ হাজার অতিক্রম করা।
যুযুধান এহেন লড়াইয়ে ভবানীপুর তাই কার্যত এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে।