সোমবার এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন 'যোগ্য'দের একাংশ। সেখানে সুমনও ছিলেন। জানিয়েছেন, ওই বৈঠকেই 'যোগ্য' চাকরিহারাদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা সময়ও দেওয়া হয়েছে। তালিকা না প্রকাশ পেলে তাঁরা অনশনে বসবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সুমন বিশ্বাস
শেষ আপডেট: 2 September 2025 00:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় 'অযোগ্য'দের তালিকা (Tainted List) প্রকাশ করেছে এসএসসি (SSC)। আর এর পরেই যোগ্য শিক্ষকরা নিজেদের চাকরি ফিরে পেতে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতে এবার বড় অভিযানের ডাক দেওয়া হল।
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর 'বিধানসভা ঘেরাও'-এর (Bidhansabha Gherao) ডাক দিয়েছে যোগ্য চাকরিহারাদের একাংশ। 'যোগ্য' চাকরিহারা শিক্ষকদের অন্যতম মুখ সুমন বিশ্বাস (Suman Biswas) এক ভিডিও বার্তায় বলেন, '৪ তারিখ যোগ্য শিক্ষকরা যে যেখান থেকে পারবেন বিধানসভা আসুন, ঘেরাও করুন। যারা বেতন পাচ্ছেন তারাও আসুন।' সুমন চান চাকরি ফেরত ইস্যুতে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন। পাশাপাশি 'যোগ্য'দের আলাদা করে তালিকা প্রকাশ করার দাবিও তুলেছেন তিনি।
সোমবার এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন 'যোগ্য'দের একাংশ। সেখানে সুমনও ছিলেন। জানিয়েছেন, ওই বৈঠকেই যোগ্য চাকরিহারাদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা সময়ও দেওয়া হয়েছে। তালিকা না প্রকাশ পেলে তাঁরা অনশনে বসবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এর সঙ্গে সুমন আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা পরীক্ষায় বসবেন না। স্পষ্ট কথা, ''চাকরি চুরি করেছে বোর্ড, রাজ্য সরকার, শাসক দল, অযোগ্যরা। তাই আমরা আর পরীক্ষায় কেন বসব। বরং সর্বদল বৈঠক করে আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। এই কারণেই বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দিচ্ছি।''
প্রসঙ্গত, এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দেওয়ার পর সুমন বিশ্বাসের ভাই অভিযোগ করেছিলেন যে, ব্যান্ডেলে তাঁদের পাড়ায় হানা দেয় পুলিশ। এদিকে সোমবারই করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনে চাকরিহারা সুমন বিশ্বাসকে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ বলে অভিযোগ। সেখানেই পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন চাকরিহারা শিক্ষক সুমন। দীর্ঘক্ষণ চলে বচসা। এও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ তাঁকে মেরেছে।
আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর এসএসসির নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরীক্ষা রয়েছে। ইতিমধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়াও সাড়া হয়ে গেছে। তবে 'দাগি'দের তালিকা বেরনোর পরই দেখা যায়, তাঁদের অনেকেই পরীক্ষায় বসতে ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ মিলিয়ে ১ হাজার ৪০০ জনের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করেছে। কয়েকজন দুই শ্রেণির নিয়োগের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার ফলে মোট ২ হাজার ১৬০টি আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে।