সংগঠনগুলির দাবি, বহু বছর আগে— ২০০২ সালের আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ও দেশের নানা রাজ্য থেকে অনেক মহিলা সোনাগাছিতে এসেছিলেন এবং বহুদিন ধরে তাঁরা বৈধ ভোটার হিসেবে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন করে বাবা-মা বা দাদা-দিদিমার ভোটার তালিকার তথ্য জমা দিতে বলা হচ্ছে।

SIR West Bengal
শেষ আপডেট: 8 December 2025 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর প্রক্রিয়ায় (SIR West Bengal) যৌনকর্মীরা বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে আবারও অভিযোগ জানালেন তিনটি সংগঠন— সোসাইটি ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাকশন (SHDSA), ঊষা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং আমরা পদাতিক। তারা জানায়, নতুন নিয়মের ফলে বহু যৌনকর্মী তাঁদের ভোটার পরিচয় হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
সংগঠনগুলির দাবি, বহু বছর আগে— ২০০২ সালের আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ও দেশের নানা রাজ্য থেকে অনেক মহিলা সোনাগাছিতে এসেছিলেন এবং বহুদিন ধরে তাঁরা বৈধ ভোটার হিসেবে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন করে বাবা-মা বা দাদা-দিদিমার ভোটার তালিকার তথ্য জমা দিতে বলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বলে এই তথ্য সংগ্রহ করা অনেকেরই পক্ষে সম্ভব নয়। বাড়ি ছাড়ার সময় কারওরই হাতে কোনও নথি ছিল না, এবং এত বছর পর সেই নথি সংগ্রহ করা কার্যত অসম্ভব। অনেকেই আবার সমাজের অপমান, প্রত্যাখ্যান বা বিপদের ভয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও পারেন না।

২০০৭ সালে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ঊষা কো-অপারেটিভের নথির ভিত্তিতে বহু যৌনকর্মীকে ভোটার কার্ড দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের পরিচয় ও সম্মানের প্রতীক ছিল। এখন সেই প্রতিষ্ঠিত পরিচয় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়েছে। সংগঠনগুলির আরও আশঙ্কা, অনেক যৌনকর্মীর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বার্থ সার্টিফিকেট নেই, তাই তারাও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।
সাংবাদিক বৈঠকে বক্তারা বলেন, তারা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধী নন। তবে বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে পুরনো বৈধ ভোটার পরিচয় বাতিল করা উচিত নয়। তাদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই যৌনকর্মীদের মৌলিক অধিকার স্বীকার করেছে। তাই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তা সাংবিধানিক অধিকার হরণের সমান।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— শিবানী গিরি, স্বপ্না জিয়েন, সুজাতা দত্ত, রতন দোলুই, পিঙ্কি বেহরা এবং অনিতা দাস।
বস্তুত, রাজ্যে এসআইআরের (SIR in West Bengal) কাজ শুরুর ১৭ দিনের মাথায় যৌনকর্মীদের (Sexworkers) কথা মাথায় রেখে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) চিঠি লিখেছিল এই তিন সংগঠনই।
আর্জি ছিল, যৌনকর্মীদের নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে বিশেষ নজর দিক কমিশন (ECI)। সেই মতো একটি স্পেশ্যাল ক্যাম্প (Special Camp) তৈরি করা হয় এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লি সোনাগাছিতে। সেখানেই কাজের তদারকিতে যেতে চলেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।
মঙ্গলবারই সোনাগাছির (Sonagachi) বিশেষ এসআইআর ক্যাম্পে যাচ্ছেন রাজ্যের সিইও (CEO) বলে সূত্রের খবর। এই ক্যাম্প করা হয়েছে যাতে সবাই এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) ফিল আপ করে জমা দিতে পারে এবং নথি সংক্রান্ত কোনও সমস্যার কথা জানাতে পারে।