কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের অর্থ দফতরের ছাড়া এই অর্থ আপাতত প্রায় ৯৫ হাজার বিএলওর মধ্যে বণ্টন করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, এই বরাদ্দ এসআইআরের কাজেই ব্যবহার করা হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 December 2025 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের (SIR) কাজ শুরু হওয়ার পরই থেকেই বিএলও-দের ভাতা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। কারণ, নির্বাচন কমিশন (ECI) বরাদ্দ চাইলেও নবান্ন টাকা না ছাড়ায় তাদের সম্মানিক আটকে ছিল দীর্ঘদিন বলেই অভিযোগ ওঠে। এই ইস্যুতে পরপর দুটি চিঠি পাঠিয়েছিল ইসিআই (ECI)। অবশেষে সোমবার রাজ্য সরকার প্রথম দফায় ৬১ কোটি টাকা ছেড়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের অর্থ দফতরের (State Finance Dept) ছাড়া এই অর্থ আপাতত প্রায় ৯৫ হাজার বিএলওর মধ্যে বণ্টন করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, এই বরাদ্দ এসআইআরের কাজেই ব্যবহার করা হবে।
গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে রাজ্য সরকারকে নিয়মমাফিক অর্থ ছাড়ার কথা জানানো হয়েছিল। তখনই জানা গেছিল, নবান্ন আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত টাকা পাঠানোর বিষয়ে। সোমবার সেই অর্থেরই একটা ভাগ ছাড়া হয়েছে অর্থ দফতরের তরফে।
এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্য সরকারের (State Government) কর্মীদের বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করেছেন এবং করছেন। সঙ্গে চলছে ডিজিটাইজেশনের কাজও। এই অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য কমিশন আলাদা ভাতা বরাদ্দ করেছে, যে টাকাটা আসবে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকেই। এ নিয়ে কমিশন ও নবান্নের মধ্যে বৈঠকও হয়।
উল্লেখ্য, এবার বিএলও-দের পারিশ্রমিকও বেড়েছে। বিএলওদের মূল সম্মানিক ১২ হাজার টাকা, বিশেষ ভাতা মিলিয়ে ১৪ হাজার। সুপারভাইজারদের পাওয়ার কথা ১৮ হাজার টাকা। অথচ বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়ার পরেও টাকা হাতে না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল মাঠের কর্মীদের মধ্যে।
এত দিন বছরে ৬ হাজার টাকা পাওয়া যেত রিভিশনের কাজের জন্য। এ বার সেই পরিমাণ দ্বিগুণ করে ১২ হাজার করা হয়েছে। কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, স্মার্টফোন না থাকা বা মোবাইল ডেটা খরচ বাড়ার মতো সমস্যাও বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার সক্রিয় বিএলওর অভিযোগ ছিল, কাজ, খরচ বাড়লেও পারিশ্রমিক সময়মতো হাতে আসছে না। নবান্ন অবশেষে বরাদ্দ ছাড়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তির দিকে গেলেও বহু কর্মী এখনও পুরো টাকা পাওয়ার অপেক্ষায়।
অন্যদিকে, যেসব বিএলও-দের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ভেবেছে নির্বাচন কমিশন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ক্ষতিপূরণের প্রসেসিং-এর কাজ শুরু হবে। আজ জাতীয় কমিশনের সঙ্গে ১২ রাজ্যের বৈঠক ছিল, সেই বৈঠকেই এমনটা বলা হয়েছে বলে খবর।
বস্তুত, গত কয়েক দিন ধরেই সিইও দফতরের সামনে অবস্থান চালাচ্ছে ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’। তৃণমূলপন্থী এই সংগঠনের বিক্ষোভের সময়ে সেখানে বিএলও-দের উপস্থিতি হাতে গোনা হলেও, কমিটির সদস্যদের মুখ্য দাবি, মৃত বিএলও-দের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। পরিবারের কোনও সদস্যকে চাকরি দিতে হবে। সে নিয়ে অবশ্য এখনও কিছু জানায়নি কমিশন।