আপাতত ভোটার এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে বিএলও (BLO), ইআরও ও অন্যান্য নির্বাচনকর্মীদের প্রশিক্ষণ। আগামী ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ফর্ম বিতরণ করবেন বিএলওরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 15:17
গত মঙ্গলবার থেকে বাংলায় এসআইআর (SIR West Bengal) তথা ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই যে সম্ভাবনার কথা জানা যাচ্ছে তাতে আগামী এক মাস ধরে রাজ্য জুড়ে হুলস্থূল পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ষোল আনা। সন্দেহ নেই তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়তে পারে। এই অবস্থায় কী করণীয় তা অবশ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (SIR in West Bengal)।
আপাতত ভোটার এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে বিএলও (BLO), ইআরও ও অন্যান্য নির্বাচনকর্মীদের প্রশিক্ষণ। আগামী ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ফর্ম বিতরণ করবেন বিএলওরা। ভোটারদের নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ এবং ফর্ম ফিল-আপ তথা ভর্তি করার কাজ চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ ব্যাপারে কোন কোন ডকুমেন্ট বৈধ তা আগেই জানিয়েছে কমিশন (SIR Documents List)।
এরপর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Voter List)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর বারবার জানিয়েছে,“কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না।” যাঁদের নাম বা পরিবারের সদস্যদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলানো হবে এবং নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, যারা যারা এই এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ (Form Fill-up) করবেন তাদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় উঠে যাবে। কিন্তু মূল বিষয় হল - যাদের নাম বা যাদের পরিবারের কোনও সদস্যের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের কী হবে।
নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে, ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা (Draft Voter List) প্রকাশ পাবে। আর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ জমা নেওয়ার পর্ব। এই সময় যারা কোনও কারণবশত ফর্ম ফিল-আপ করতে পারবেন না, বা যাদের বাড়িতে গিয়ে বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাবে না অথবা অন্য কোনও কারণে এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ হবে না, তাঁরা অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইআরও ও এইআরওর নেতৃত্বে এই শুনানি সম্পন্ন হবে। আপিলের সুযোগও থাকছে - প্রথমে জেলা শাসকের কাছে, পরের ধাপে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে।
এই সময়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেখিয়ে ফর্ম-ফিলাপ করে দিতে হবে। ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ব্যক্তির নাম বা তাঁর পরিবারের সদস্যর সম্পর্ক 'ম্যাচিং' হলেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন ধাপে শুনানি হবে।
এদিকে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে অথচ যাদের ২০০২ ভোটার তালিকার সঙ্গে 'ম্যাচিং' (Matching) হয়নি, তাঁদের এই ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে নোটিস দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরে এসে তখন তাঁদের প্রামাণ্য নথি দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে। তিন ধাপের শুনানির পরও যারা প্রমাণ দিতে পারবেন না, তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় উঠবে না।
কমিশনের অনুমান অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটারের নাম ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নাও মিলতে পারে। ফলে এই সংখ্যক ভোটারকেই ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নোটিস দেওয়া হতে পারে।
জানিয়ে রাখা ভাল, বাংলায় বর্তমানে ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ ভোটার রয়েছে। তার ৩০ শতাংশ মানে সওয়া ২ কোটিরও বেশি ভোটার। এত সংখ্যক ভোটারকে নোটিস দেওয়া হলে যে কী ধুন্ধুমার পড়ে যেতে পারে তা আশঙ্কা করে প্রশাসনের অনেকেই উদ্বেগে রয়েছে। একটি জেলায় ৪০ শতাংশ ভোটারের নাম না মেলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও খবর।
যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই অথচ জন্ম ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প নথি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কমিশনের দেওয়া ১১ টি নথির মধ্যে যে কোন একটি ও রঙিন ছবি।
শেষবার এসআইআর হয়েছিল ২০০২–০৪ সালে। সেই সময়ের পর থেকে রাজ্যে জনসংখ্যা এবং বাসিন্দাদের অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অনেকের মৃত্যু হলেও তাঁদের নাম তালিকায় রয়ে গিয়েছে, আবার কিছু বিদেশির নামও যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, “কোনও ভোটারকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিএলওরা স্থানীয় মানুষ, তাঁরা লুকিয়ে বা চুপিচুপি যাচ্ছেন না। সবার সঙ্গে কথা বলেই ফর্ম নেবেন। ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ থাকবে।”
ইতিমধ্যেই প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য ইউনিক এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো শুরু হয়েছে। বুথপ্রতি ভোটারসংখ্যা ১,২০০-র মধ্যে সীমিত রাখা হবে, প্রয়োজনে নতুন বুথও তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্টদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক প্রকৃত ভোটার নিশ্চিতভাবে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।