সাধারণ মানুষের বক্তব্য একটাই— “রাজনীতি যাই হোক, গুলি-টুলি বন্ধ হোক। প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে চাই না।”

সিসিটিভির ফুটেজ।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গুলশান কলোনি (Gulshan Colony)। একের পর এক গুলির শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ (TMC) দুষ্কৃতী মিনি ফিরোজ ও তাঁর দলবলের দিকে। শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নাকি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ কায়েমের লড়াই— কোন কারণে এই রক্তচক্ষু, তা নিয়ে প্রশ্ন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
এলাকা সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশান কলোনির অটোস্ট্যান্ডে হঠাৎই দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। একের পর এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। আতঙ্কে দোকানপাট, বাজার মুহূর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্যেক ভোটের মরসুমে এভাবেই দুষ্কৃতীদের দাপট বাড়ে। এবারের ঘটনাও তারই পুনরাবৃত্তি।
অভিযোগের কেন্দ্রে মিনি ফিরোজ। তিনি শাসকদলের এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। যদিও ঘটনার সময় তিনি এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিরোজের সহযোগী সাজিদ-সহ কয়েকজন দলবল নিয়ে হামলা চালায়। শুধু গুলি চালানোই নয়, এলাকায় এক বাসিন্দাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মুখ ফেটে গিয়েছে তাঁর। আহত ব্যক্তি পুলিশের সামনেই সাজিদের নাম নেন বলে খবর।
ঘটনার পরই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় আনন্দপুর থানার তরফে। গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে গুলি চালানোর মুহূর্ত ধরা পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, “গুলশান কলোনির ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই আসল কারণ। ভোটের আগে প্রভাব খাটানোর জন্যই এই তাণ্ডব।” শাসকদলের তরফে অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যদিও সাধারণ মানুষের বক্তব্য একটাই— “রাজনীতি যাই হোক, গুলি-টুলি বন্ধ হোক। প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে চাই না।”