টিএমসিপির অভিযোগ, "‘এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। স্থায়ী সিসিটিভি ও পুলিশ পোস্ট না থাকায় এই বিপত্তি বারবার ঘটছে।"

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 09:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (mysterious death of a student, Jadavpur University) প্রাঙ্গণে ফের মৃত্যু। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা কুড়ি মিনিট নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের কাছে ছাত্র ইউনিয়ন রুম সংলগ্ন পুকুর থেকে ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের দেহ উদ্ধার হয়। ড্রামা ক্লাবের উদ্যোগে গৌর দাস বাউল ও তাঁর দলকে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। সেই ভিড়, মাইক, গানের শব্দের মধ্যেই নিথর দেহ ভেসে ওঠে পুকুরে।

চোখে পড়তেই তাঁকে টেনে তোলা হয়, দীর্ঘ সময় সিপিআর দেওয়া হয়। কিন্তু কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যেতেই চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন অনামিকাকে। ঠিক কী ভাবে তিনি পুকুরে পড়লেন, তা স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের দাবি—সঙ্গীত ও মাইকের আওয়াজে তাঁর সাহায্যের আর্তনাদ কেউ টের পাননি।
এই মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই অবাধে চলে মদ্যপান। তাঁদের দাবি, ‘‘এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। স্থায়ী সিসিটিভি ও পুলিশ পোস্ট না থাকায় এই বিপত্তি বারবার ঘটছে (CCTV and security)।’’
সংগঠনের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য সরাসরি আঙুল তুলেছেন এসএফআই-এর দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘দু’বছর আগে স্বপ্নদীপ, আজ অনামিকা। দায় এড়াতে পারে না যারা সিসিটিভির বিরোধিতা করে।’’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারা মনোনীত স্থায়ী উপাচার্যের দাবি তুলেছে টিএমসিপি।
অন্যদিকে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কচকচানিই তৃণমূলের চরিত্র প্রকাশ করছে।’’ তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘যেখানে সিসিটিভি ছিল, সেখানে তো তিলোত্তমার মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। দক্ষিণ কলকাতার আইনের কলেজে কেন মৃত্যুর ঘটনা ঘটল?’’
দু’পক্ষের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত যাদবপুর ক্যাম্পাস। ময়নাতদন্তের রিপোর্টই এখন দেবে আসল উত্তর। তবে ফের একবার ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুতে অস্বস্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়।