ক্রমশ কমে যাচ্ছে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সাহায্য। তার ফলে আর্থিক কষ্টে ভুগছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর থেকেই বারবার এমন অভিযোগ উঠছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের টাকায় স্মার্ট ক্লাসরুম
শেষ আপডেট: 2 September 2025 00:51
প্রয়োজন থাকলেও টাকার অভাবে অনেক কিছুই করা যাচ্ছে না গত কয়েকবছর ধরে। হাত বাড়ানোর জন্য ডাক দেওয়া হয়েছিল প্রাক্তনীদের। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ২০০২ ব্যাচের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনের ছাত্ররা এগিয়ে এলেন। ৪০ জন পড়ুয়ার দেওয়া ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণার জন্য কেনা হল বেশ কিছু দামি যন্ত্রাংশ। আগামীতে আরও বড় ড্রাইভ দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন বলে জানালেন প্রাক্তনীরা।
ক্রমশ কমে যাচ্ছে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সাহায্য। তার ফলে আর্থিক কষ্টে ভুগছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর থেকেই বারবার এমন অভিযোগ উঠছে। দেশের অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সংকট নিয়ে বছর কয়েক আগে তৎকালীন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস রাজ্য সরকারকে চিঠিও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তনীদের কাছে। তারপরেই প্রাক্তনীদের একাংশ গুরুদক্ষিণা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে।
মার্কিন মুলুকে থাকা যাদবপুরে প্রাক্তনী রজত দাস বলেন, ‘‘সুরঞ্জনবাবু আমরা যাঁরা যাদবপুরে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, তাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে কাজে নেমে বুঝতে পেরেছিলাম, অনেকেই সাহায্য করতে চায়, কিন্তু কী করে করবে জানে না। এরপরেই হাতে হাত ধরার কাজটা শুরু হয় । আমরা ২০০২ ব্যাচের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনের ছাত্রদেরই প্রথম জড়ো করি। কারণ এর বাইরে বের হতে গেলে আরেকটু সময় লাগত। বুঝেছিলাম, যে কাজটা ৪০ জনে করে ফেলা সহজে হবে, সেটা ৪০০ জনে করতে সময় লাগবে। তাই আমরা ৪০ ছাত্র এই ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তুলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেই। সেই টাকায় তৈরি হয়েছে একটি স্মার্ট ক্লাসরুম। কেনা হয়েছে বেশ কিছু অত্যাধুনিক যন্ত্র।’’
তিনি জানান, এই ক্লাসরুম ও যন্ত্রগুলি শুধু ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টই নয়, চাইলে অন্য ডিপার্টমেন্টের পড়ুয়ারাও ব্যবহার করতে পারবে। বেশি সংখ্যক পড়ুয়া এর সুযোগ নিলে, আখেরে তা বিশ্ববিদ্যালয়েরই লাভ। এখনও যে ২ লক্ষ টাকা তাঁদের হাতে রয়েছে, তা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেমিনার করার কথাও ভাবছেন তাঁরা। এখানেই শেষ নয়, ২০২৭ সালের মধ্যে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা যাদবপুরের একদা ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে যেতে চান তাঁরা। রজতের কথায়, ‘‘যাদবপুর আমাদের আবেগ। প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষতা ধরে রাখতে আমাদের ব্যক্তিগত পরিসরে যতটুকু সম্ভব সবটাই করব। সেই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি আমরা।’’