মূল প্রশ্ন, অধ্যক্ষ বিধানসভার বাইরে এসে বিধানসভা কক্ষের মধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত কি পরিবর্তন করতে পারেন? তাঁর সাফ কথা, এই প্রশ্নের উত্তর যতক্ষণ না মিলছে ততক্ষণ অধিবেশন কক্ষে যাবেন না তাঁরা।

বিধানসভার বাইরে বিজেপি বিধায়করা - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) আবারও একবার বিধানসভা (Bidhansabha) থেকে সাসপেন্ড (Suspend) করেছেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee)। আর এই ইস্যুতেই বাকি বিজেপি বিধায়করা (BJP MLA) বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব বয়কট করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধ্যক্ষ।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) বলেছেন, অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার ভেতরে ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সেই দিনের জন্য সাসপেন্ড। অথচ বাইরে তিনি জানান, এই সেশন অর্থাৎ আজকে পর্যন্ত তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোনটা ঠিক, এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এতএব স্পষ্টত বিষয়টি নিয়ম মেনে করা হয়নি বলেই দাবি তাঁর।
শঙ্কর ঘোষের মূল প্রশ্ন, অধ্যক্ষ বিধানসভার বাইরে এসে বিধানসভা কক্ষের মধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত কি পরিবর্তন করতে পারেন? তাঁর সাফ কথা, এই প্রশ্নের উত্তর যতক্ষণ না মিলছে ততক্ষণ অধিবেশন কক্ষে যাবেন না তাঁরা। এই ইস্যুতে সরাসরি বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি মনে করেন, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদকে যে নিম্নস্তরে নামিয়ে এনেছেন তা ইতিহাসের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা থাকবে।
ঘটনার সূত্রপাত, বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় আলোচনার প্রস্তাব এনেছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় নাটকীয় মোড় নেয় বিধানসভায়। বক্তব্য রাখছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সোমবার মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা দিবসের মঞ্চ খোলার অভিযোগ উঠেছিল সেনার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে নিজের ভাষণে সেনার ভূমিকার সমালোচনা করেন ব্রাত্য। উল্লেখ করেন পাকিস্তান সেনার একটি কর্মকাণ্ডের কথা। ঠিক তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাধা দেন।
তিনি বলেন, “এভাবে ভারতীয় সেনা নিয়ে কথা বলা যায় না।” এরপরই তিনি একাধিকবার উচ্চস্বরে ‘ইন্ডিয়া আর্মি জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সতর্ক করেন। কিন্তু শুভেন্দু তাতে কর্ণপাত করেননি বলেই অভিযোগ। বিধানসভা কক্ষের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শেষমেশ শুভেন্দুকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার।