শান্তার বাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে। ২০১৯ সালে এক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশি মডেলিং সংস্থা এবং সিনেমায় কাজ করার পর ভারতে আসেন।

শান্তা পাল
শেষ আপডেট: 1 August 2025 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladeshi) হয়েও একাধিক ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে কলকাতায় (Kolkata) দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন মডেল শান্তা পাল (Shanta Pal)। সম্প্রতি শান্তার যাদবপুর লাগোয়া বিক্রমগড়ের ভাড়া বাড়িতে হানা দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়ি থেকে একাধিক ভুয়ো আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে (Fake IDs)। এর পাশাপাশি মিলেছে শান্তার নামে ইস্যু করা একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্টও। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে, যখন ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে কিছু বিজ্ঞাপন, যেখানে আধার ও পাসপোর্ট বানানোর অফার দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ফোন নম্বর ও ঠিকানাও পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই সব কাগজপত্রের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র জালিয়াত চক্রের যোগসাজশের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ঠিক কী উপায়ে এবং কার মাধ্যমে শান্তা এতগুলি জাল নথিপত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেন।
জানা গেছে, শান্তার বাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে। ২০১৯ সালে এক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশি মডেলিং সংস্থা এবং সিনেমায় কাজ করার পর ভারতে আসেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে তিনি কলকাতার বিক্রমগড় এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ছিলেন।
এই সময়েই তেলুগু সিনেমায় কাজ করেন বলে দাবি করেছেন তিনি। সম্প্রতি পর্যটন সংক্রান্ত ব্যবসার পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। সেই সূত্রে শহরের পার্কস্ট্রিট অঞ্চলের এক বাসিন্দার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, শান্তা একটি মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে এসে অবৈধ ভাবে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন।
এরপরই সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করে তদন্তকারীরা। তাঁদের শান্তা কোনও বৈধ ভিসা দেখাতে পারেননি। ২০২৩ সালে যে ভিসা নিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। পাসপোর্টের মেয়াদও ফুরিয়েছে চলতি বছরেই।
উদ্ধার হওয়া আধার কার্ড দুটির মধ্যে একটির ঠিকানা কলকাতার, অন্যটির বর্ধমান জেলার। ভোটার এবং রেশন কার্ডের ঠিকানাও ভিন্ন ভিন্ন। শান্তা এই ভিন্ন ঠিকানা এবং নথিপত্রের বৈধতা সম্পর্কে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। ফলে তদন্তকারীরা মনে করছেন, শান্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে আরও বড় কোনও জালিয়াত চক্র।
পুলিশ এখন সেই ফোন নম্বর ও বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে খতিয়ে দেখছে, এই চক্রের মূল মাথা কারা। শান্তার ভূমিকাও পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।