খোদ শাসকদলের বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ (Atin Ghosh) স্বীকার করে নিলেন, স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

অতীন ঘোষ
শেষ আপডেট: 20 March 2026 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের (RG Kar Rape and Murder Case) দগদগে ঘা এখনও শুকোয়নি। সেই আরজি কর হাসপাতালেই (RG Kar Lift Case) এবার প্রাণ গেল এক রোগীর পরিজনের। দীর্ঘক্ষণ লিফটে আটকে মৃত্যু হয়েছে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৪০)। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খোদ শাসকদলের বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ (Atin Ghosh) স্বীকার করে নিলেন, স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
জানা গিয়েছে, চার বছরের সন্তানের চিকিৎসার জন্য আরজি করে এসেছিলেন অরূপবাবু। শুক্রবার সকালে পাঁচ তলা থেকে নামার সময় আচমকাই বিকল হয়ে যায় লিফট। অভিযোগ, প্রবল ঝাঁকুনির পর লিফটটি নীচে পড়ে যায় এবং দরজা আটকে যায়। পরিবারের সদস্যরা বারবার সাহায্য চাইলেও দীর্ঘ দেড়-দু'ঘণ্টা কেউ কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। উদ্ধার যখন করা হল, ততক্ষণে সব শেষ। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর আত্মীয়রা। উল্লেখ্য, অরূপবাবুর স্ত্রী ও সন্তানও বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার সকালেই ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক অতীন ঘোষ এবং কলকাতা পুলিশের ডিসি (উত্তর) দীনেশ কুমার। অতীনবাবু বলেন, “স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যর্থতায় এই ঘটনা ঘটেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। হাসপাতালের নজরদারিতে বড়সড় ফাঁক রয়েছে।” তিনি আরও জানান, লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পূর্ত দফতরের। কেন লিফটম্যান বা নিরাপত্তারক্ষীরা সময়ে উপস্থিত ছিলেন না, সেই কৈফিয়ত তলব করা হবে। আগামী সোমবার রোগী কল্যাণ সমিতির জরুরি বৈঠক ডেকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
লালবাজার সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। গাফিলতির অভিযোগে লিফটম্যান-সহ নিরাপত্তা ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজনকে থানায় তলব করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত করা হচ্ছে ঠিক কার গাফিলতিতে এই প্রাণহানি।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে এই আরজি করের (RG Kar Rape Case) সেমিনার রুমেই এক মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় থেকে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, শুক্রবারের দুর্ঘটনা যেন প্রমাণ করে দিল— পরিস্থিতির বদল হয়নি বিশেষ। কাকতালীয়ভাবে, গত রাতেই প্রয়াত ওই চিকিৎসকের মা পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরজি করে এই মৃত্যু রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অতীন ঘোষ অবশ্য দায় ঠেলেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর। তাঁর দাবি, রোগী কল্যাণ সমিতির দৈনন্দিন প্রশাসনে নাক গলানোর আইনি ক্ষমতা নেই, তাই সব দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরই।