২০২৬ সাল জুড়ে ধাপে ধাপে এই বিশাল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন ইমার্জেন্সি চালু হলে সরকারি হাসপাতাল হিসেবে দেশের অন্যতম আধুনিক ট্রমা-কেয়ার সেন্টার হয়ে উঠবে পিজি হাসপাতাল।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে পিজি হাসপাতাল (Revolution in PG: Plans for three-storey modern emergency)। শুধু পূর্ব ভারতই নয়, দেশের অন্যতম আধুনিক ও বিস্তৃত ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে পিজি। ট্রমা কেয়ারের ধাঁচে এখানে তৈরি হবে আলাদা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন—যা এতদিন পর্যন্ত কেবল দিল্লির মতো শীর্ষ সরকারি মেডিকেল কলেজেই দেখা যেত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ইমার্জেন্সিতে থাকবে মোট ১১০টি বেড—যার মধ্যে বাড়তি ইমার্জেন্সি টেবিলও থাকবে, যেখানে রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। বর্তমানে পিজির ইমার্জেন্সি বিভাগে রয়েছে মাত্র ৪৫টি বেড ও ৫টি ইমার্জেন্সি টেবিল। ফলে নয়া প্রকল্প কার্যকর হলে পিজির জরুরি পরিষেবা প্রায় তিনগুণ প্রসারিত হবে।
ইমার্জেন্সি বিভাগকে ‘মেডিক্যাল কলেজের আয়না’ বলা হয়। আশঙ্কাজনক রোগীর প্রথম ভরসা এই ইউনিটই। সেই কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ইমার্জেন্সি পরিষেবা দিতে গেলে প্রয়োজন বিস্তৃত পরিকাঠামো। এই লক্ষ্যেই কয়েক মাস আগে দিল্লির এইমস ও সফদরজং—দেশের দুই সেরা সরকারি মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি বিভাগ পরিদর্শন করেছিলেন পিজির চিকিৎসকরা। সেখানকার পরিকাঠামো, জনবল এবং রোগীসেবার ধরণ খতিয়ে দেখে সেই অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে পিজির নয়া পরিকল্পনা।
বর্তমান একতলা ইমার্জেন্সিকে বাড়িয়ে তিনতলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল ভবনের আশপাশের ফাঁকা জায়গা পরিষ্কার করে সেখানে গড়ে তোলা হবে ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ড (EOW)। প্রতিটি জোনে আনা হবে অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক মনিটর, ডিফিব্রিলেটর, উন্নত লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমসহ একাধিক যন্ত্রপাতি। বর্তমানে পিজির ৪৫ শয্যার ইওডব্লু-তে রয়েছে মাত্র একটি ভেন্টিলেটর। নতুন প্রকল্পে সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ানো হবে বলে হাসপাতাল সূত্রের খবর।
পিজির এক চিকিৎসক বলেন, “সারা দেশে সবচেয়ে বেশি ইমার্জেন্সি রোগী সামলায় দিল্লির সফদরজং—দৈনিক প্রায় তিন হাজার। পিজিতে দৈনিক রোগী সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি হলেও চাপ কম নয়। সফদরজং পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা আমাদের নতুন ইমার্জেন্সি বিভাগের নকশায় দিশা দেখাচ্ছে।”
কলকাতার দু’টি বড় কর্পোরেট হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যেখানে বেড সংখ্যা ২৫–২৬, সেখানে পিজির নতুন ইমার্জেন্সি রূপরেখা অনুযায়ী তৈরি হলে সেই ক্ষমতাকে বহু গুণ ছাড়িয়ে যাবে। পরিকাঠামো উন্নত হলে পরিষেবার মান, রোগীর চিকিৎসার গতি—সব ক্ষেত্রেই নজির গড়বে এই সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি।
২০২৬ সাল জুড়ে ধাপে ধাপে এই বিশাল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন ইমার্জেন্সি চালু হলে সরকারি হাসপাতাল হিসেবে দেশের অন্যতম আধুনিক ট্রমা-কেয়ার সেন্টার হয়ে উঠবে পিজি হাসপাতাল।