বিজ্ঞানীদের গবেষণা—যা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি’-তে—জানাচ্ছে, ঘরের ভেতরের দূষণের মূল কারণ আমাদের নিত্যদিনের কাজকর্মই।
.jpeg.webp)
এআই ছবি।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি-এনসিআর জুড়ে দূষণের দাপট এতদিন পর্যন্ত মূলত বাইরের বাতাসকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাত। চিকিৎসকেরা শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষদের ঘরে থাকারই উপদেশ দিতেন। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাল (scientific research) উল্টো চিত্র—বাইরের তুলনায় ঘরের মধ্যেই বিষ-বায়ুর মাত্রা কখনও কখনও পাঁচগুণ পর্যন্ত বেশি (Air pollution in the house five times compared to the outside)!
সম্প্রতি আইআইটি যোধপুর, এনআইটি ওয়ারাঙ্গাল এবং বিআইটিএস পিলানির বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন ভারতের প্রথম ‘ইন্ডোর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ বা আইএকিউ—এক ধরনের ঘরোয়া একিউআই মানচিত্র। এই নতুন সূচক দেখাচ্ছে, দিল্লি ও এনসিআরের বহু শহরে গৃহবন্দি মানুষেরাও তীব্র দূষণের শিকার। ফলে স্বস্তির আশ্রয় হিসেবে ঘর—এখন হয়ে উঠছে উদ্বেগের আরেক কেন্দ্র।
পরিস্থিতি এমন চরমে পৌঁছেছে যে পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ সিএকিউএম ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে অর্ধেক কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু যদি ঘরেই দূষণের বিষ-মেঘ ঘিরে থাকে, তাহলে সেই ‘সুরক্ষিত আশ্রয়’ই কি তবে নতুন বিভীষণ?
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, দিল্লি আসলে এখন স্বাস্থ্য-জরুরি অবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করতে চাইছে না বলেই তাদের দাবি। এদিকে শহরজুড়ে রুম এয়ার পিউরিফায়ারের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে বাজারে মিলছে না অনেক জায়গায়।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা—যা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি’-তে—জানাচ্ছে, ঘরের ভেতরের দূষণের মূল কারণ আমাদের নিত্যদিনের কাজকর্মই।
রান্না, ঘর পরিষ্কার, ধুলো ঝাড়া, এয়ার ফ্রেশনার—সব মিলিয়ে পিএম২.৫ এবং পিএম১০ কণার ঘনত্ব এক ধাক্কায় বহু গুণে বেড়ে যাচ্ছে। রান্নার সময় সৃষ্ট ধোঁয়া, গ্যাস স্টোভের তাপ, ক্লিনিং কেমিক্যাল, ঘরের বন্ধ অবস্থায় ধুলো জমা—সবকিছু মিলিয়ে ঘরের বাতাস কখনও কখনও বাইরের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে পাঁচগুণ বেশি বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা, প্রবীণরা এবং হাঁপানি-এলার্জিতে ভোগা মানুষরা। কারণ, মাইক্রো-কণা খুব সহজেই ফুসফুসে ঢুকে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
তাহলে উপায় কী?
বিজ্ঞানীদের পরামর্শ—ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, জানলা-দরজা নিয়মিত খোলা রাখা, বাইরে দূষণ চরমে থাকলে ঘর পরিষ্কার বা রান্নার কাজ কিছুটা কমানো, সম্ভব হলে নন-স্টিক বা কম-ধোঁয়াযুক্ত রান্নার পদ্ধতি ব্যবহার এবং ঘরের ভেন্টিলেশন বাড়ানো।
অর্থাৎ বাইরের দূষণ ভয় ধরালেও ঘরের নীরব দূষণই এখন বড় হুমকি। আর তাই শহরবাসীর প্রশ্ন—বাঁচব কোথায়?