শতাব্দী এখন লোকসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার। সেই পদাধিকারে শতাব্দী সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিতেই পারেন। তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হল, শুধুই কি তাই?

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 30 November 2025 09:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় চলতি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে স্পষ্ট ৫টি প্রশ্ন তুলে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের (AITC) সংসদীয় প্রতিনিধি দল। নির্বাচন সদনে তাঁদের বৈঠকের পর এক বিরল ছবি দেখা গেছে। তা হল, দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনের পর বাংলায় সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিচ্ছেন বোলপুরের সাংসদ শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy)।
শতাব্দী এখন লোকসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার। সেই পদাধিকারে শতাব্দী সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিতেই পারেন। তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হল, শুধুই কি তাই? শুক্রবার ডেরেক ছাড়াও সংবাদমাধ্যমে ইংরেজিতে বিবৃতি দিয়েছেন লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। প্রশ্ন উঠতে পারে, তার পরেও শতাব্দী কেন? সংসদীয় প্রতিনিধি দলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আইনজীবী ও বক্তাও ছিলেন, তিনি নয় কেন? তা হলে কি শতাব্দীকে উপরের দিকে তুলে আনা হচ্ছে? কেন হচ্ছে?
২০০৯ সালে তাপস পালের মতই প্রথম বার লোকসভায় সাংসদ হয়েছিলেন শতাব্দী। তার পর থেকে গত ১৫-১৬ বছরে দলের হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করা, সংসদে সামগ্রিক ভাবে দলীয় অবস্থান নিয়ে বলা ইত্যাদি বিশেষ দেখা যায়নি। বলতে গেলে এক প্রকার দল ভারী করার তালিকায় ছিলেন। বরং দিল্লিতে অনেক বেশি মুখর ও তুখোর বক্তা ছিলেন কাকলী ঘোষদস্তিদার। বিভিন্ন সময়ে দল কাকলীকে দিয়ে শুধু সাংবাদিক বৈঠক করায়নি, ২০১২ সালে উত্তরপ্রদেশ ভোটে দায়িত্বও দিয়েছিল।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, কৌশলগতভাবেই শতাব্দীকে তুলে আনার চেষ্টা হচ্ছে। তা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপার নয়, দু’জনে মিলে আলোচনা করেই করেছেন। শুক্রবার যে ১০ জন সাংসদকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে, সেই টিম তৈরি করে দিয়েছিল কালীঘাটই। সেই সঙ্গে স্ক্রিপ্টও বলে দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকের পর কে কে সাংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দেবেন। শতাব্দীর নামটাও কালীঘাট থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়।
In protest against @ECISVEEP's poorly planned, @BJP4India-guided SIR exercise, our 10-member delegation raised a strong voice at the Nirvachan Sadan in Delhi.
Our Hon’ble MPs placed five direct questions before the Chief Election Commissioner that Gyanesh Kumar failed to answer:… pic.twitter.com/IoU7cJw2iO— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) November 28, 2025
তৃণমূলের কালীঘাটের আস্থাভাজন ওই নেতার কথায়, সমস্যা হল দলে মহিলা সাংসদ, বিধায়ক বা নেত্রীদের মধ্যে ভাল বক্তার অভাব রয়েছে। কাকলী ঘোষদস্তিদারের শরীর ইদানীং ভাল যাচ্ছে না। অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র বাংলায় বললে তার খুব বেশি গ্রহণযোগ্যতা থাকছে না। সমস্যা রয়েছে কলকাতাতেও শশী পাঁজা বা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য—এঁরা কেউই ক্ষুরধার বলে বিবেচিত নন। শশী পাঁজা বাঙালি নন, তাই তাঁর বাংলা শব্দচয়নে ও বলায় সমস্যাও রয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, টিভির বিতর্কে হোক বা আলোচনা সভায় বিজেপি বা বামেরা যখন কেয়া ঘোষ- দীপ্সিতা ধরদের মতো মহিলাদের তুলে আনছেন, তখন শাসক দল তৃণমূলের কেউ নেই।
সার্বিক এই প্রেক্ষাপটে যেমন, শতাব্দী রায়কে শিখিয়ে পড়িয়ে ঘষে মেজে যেমন এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তেমনই বাংলাতেও তরুণ মুখ খোঁজা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপাতত পাঠ দেওয়া হচ্ছে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের মেয়ে তথা তরুণ নেত্রী প্রিয়দর্শিনী ঘোষকে। তবে প্রিয়দর্শিনী ছাড়া আর কাউকে সেভাবে এখনও যোগ্য হিসাবে পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলের ওই নেতার কথায় শুক্রবার শতাব্দী রায়ের পারফরমেন্স মন্দ ছিল না। যে ৫ প্রশ্ন দল কমিশনের কাছে করতে চেয়েছে, তা বাইরে এসে স্পষ্ট ভাবেই বলেছেন ও ব্যাখ্যা করেছেন শতাব্দী। বলা যেতে পারে এই শুরু। এ বার শতাব্দীকে আরও ঘন ঘন এই ভূমিকায় দেখা যাবে। ছাব্বিশের ভোটের প্রচারেও তাঁকে আরও বেশি ব্যবহার করার কথা ভাবছে দল।