"এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের কাছে আমাদের পাঁচটি প্রশ্ন রেখেছিলাম। কমিশন তার সদুত্তর দিতে পারেনি। আমরা বলেছি, তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা যাবে না, এখনই এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হোক।"

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 14:12
দ্য ওযাল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) এর নাম করে বাংলার একজন যোগ্য ভোটারের নামও বাদ গেলে তৃণমূল (TMC) যে বরদাস্ত করবে না, তা আগেই জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Avishek Banerjee)। গত সোমবারই এ ব্যাপারে দলের আন্দোলনকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন অভিষেক। শুক্রবার দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Election commission of India) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে সেই একই কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে এলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
ডেরেক ও ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে এদিন তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেন। ২ ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। বৈঠক শেষে বাইরে এসে ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, "এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের কাছে আমাদের পাঁচটি প্রশ্ন রেখেছিলাম। কমিশন তার সদুত্তর দিতে পারেনি। আমরা বলেছি, তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা যাবে না, এখনই এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হোক।"
তৃণমূলের বক্তব্য, এসআইআর হোক, কিন্তু যে প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার জড়িয়ে রয়েছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে এত তাড়াহুড়ো কেন করা হচ্ছে?
এদিন তৃণমূলের তরফে কমিশনের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন রাখা হয়। বৈঠক শেষে বাইরে এসে দলের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, "আমরা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, "এসআইআর এর উদ্দেশ্য কী? ভুয়ো ভোটার নাকি অনু্প্রবেশকারীদের ধরা? তাই যদি হবে তাহলে দেশের সীমান্তবর্তী বাকি রাজ্যগুলিতেও কেন এসআইআর হচ্ছে না? বেছে বেছে বাংলাতেই কেন?"
বৈঠকে তথ্য তুলে ধরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়, এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পাহাড় প্রমাণ কাজের চাপে এবং আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৫ জন সাধারণ মানুষ এবং পাঁচজন বুথ লেবেল অফিসার (বিএলও)। একাধিক বিএলও কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও তাঁদের রাজ্যের সিইও অফিসের তরফে কাজ করার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
দলের অপর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র-রা জ্ঞানেশ কুমারকে বলেন, "এখনকার ভোটার লিস্ট যদি ভুয়ো হয়, তাহলে তো সবার আগে বর্তমান সরকার ফেলে দেওয়া উচিত, আমরা যাঁরা সাংসদ তাঁদেরও তো তাহলে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসা উচিত। নয় কি?"
কমিশনের কাছে তাঁরা এই অভিযোগও করেন যে নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সংস্থা কেন নিজেদের মতো কাজ না করে বিজেপির কথা মতো চলছে? এ ব্যাপারে বৈঠকে একাধিক তথ্য তুলে ধরে কল্যাণ, মহুয়ারা জ্ঞানেশ কুমারকে বলেন, "বিজেপির নেতারা আগের দিন যে কথা বলছেন, পরের দিন সেই একই কথা বলতে দেখা যাচ্ছে কমিশনকে। এর দ্বারা কী প্রমাণিত হয়?"
সম্প্রতি বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে অত্যাচার করার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে এসআইআর এর যোগসূত্র নিয়েও কমিশনের কাছে জানতে চান তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।
ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, "যেভাবে এসআইআর এর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পুরোটাই বিজেপির তৈরি রুপরেখা অনুযায়ী কমিশন চলছে। তাই আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে এসেছি, আমাদের প্রশ্নের সদুত্তর না দেওয়া পর্যন্ত বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হোক।" একই সঙ্গে তাঁরা এও জানান, একজন প্রকৃত ভোটারেরও নাম বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।
এর আগে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, চারজনের বেশি দেখা করতে পারবেন না। এর পরই কমিশনকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “নির্বাচন কমিশনার যদি সত্যিই স্বচ্ছ্ব হয়, তাহলে মাত্র ১০ জন সাংসদকে ভয় কীসের? খোলাখুলি বৈঠক করুন, আমাদের পাঁচটা প্রশ্ন রয়েছে। লাইভ টেলিকাস্টে এই সোজাসাপ্টা পাঁচ প্রশ্নের জবাব দিন।” শেষে তৃণমূলের দাবি মেনে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তবে লাইভ টেলিকাস্ট হয়নি। এখন দেখার তৃণমূলের দাবি মেনে কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে আসে কিনা, তা নিয়ে কৌতূহল সব মহলে।