রাজনৈতিক মহলও এই ঘটনাপ্রবাহকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের দু’টি ‘উদ্বেগজনক’ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তার পরই কমিশনের তরফে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের মত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 25 November 2025 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে জোরদার প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন (Derek O Brian) প্রথমে ২৩ নভেম্বর কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করার অনুরোধ করেছিলেন। সেই আবেদন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পরপর দুটি সতর্কতামূলক চিঠির পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। শুক্রবার দিল্লির নির্বাচনী সদনে পাঁচ সদস্যের তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে আলোচনার জন্য ডাকাও হয়েছে।
কিন্তু এই আমন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আরও বড় প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। তাঁর দাবি, যদি নির্বাচন কমিশন (ECI) সত্যিই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার কথা বলে, তবে মাত্র পাঁচজনের বদলে ১০ সাংসদের সামনে আলোচনা করতে আপত্তি কোথায়? সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বার্তা - সরকারের তরফে মনোনীত সিইসি (CEC) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সাংসদদের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন।
অভিষেক জানান, তৃণমূল প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে মাত্র পাঁচটি স্পষ্ট প্রশ্ন রাখতে চায়। তার জবাব দিতে চাইলে বিরোধীদের সামনে লুকোছাপার প্রয়োজন নেই। তাঁর প্রস্তাব - বৈঠক যদি সত্যিই খোলামেলা হয়, তবে সেটি সরাসরি লাইভ সম্প্রচার (Live Stream) করা হোক, যাতে দেশবাসী পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পান।
Time has been sought for a delegation of 10 MPs. They are representatives ELECTED BY THE PEOPLE OF INDIA, unlike the CEC and ECs who are hand-picked by the Government of India. These selective leaks portraying the EC as “transparent” and “cordial” are nothing but a manufactured… https://t.co/KYD4Jx8jpj
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) November 25, 2025
এদিকে রাজনৈতিক মহলও এই ঘটনাপ্রবাহকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কমিশনের দু’টি ‘উদ্বেগজনক’ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তার পরই কমিশনের তরফে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের মত।
তবে কমিশনের এই পদক্ষেপ সত্ত্বেও তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষোভ কিছুতেই কমছে না। তাঁদের অভিযোগ, স্বচ্ছতার দাবি করা কমিশনের আচরণ বারবারই প্রশ্ন তুলছে - আসলে তারা কতটা নিরপেক্ষ?
প্রসঙ্গত, সোমবার দু’টি ‘উদ্বেগজনক’ সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে (Election Commission of India) চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মমতা দু'টি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন - (১) সদ্য প্রকাশিত রিকোয়েস্ট অফ ফর্ম অনুযায়ী রাজ্যের সিইও দফতরের তরফে বাইরে থেকে ১,০০০ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের উদ্যোগ, (২) বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এতদিন ডেটা এন্ট্রি সংক্রান্ত জরুরি কাজের জন্য জেলা প্রশাসনই প্রয়োজনমতো অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করত। বর্তমানে BSK কর্মী এবং চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে কাজও চলছে স্বাভাবিকভাবেই।
তা হলে হঠাৎ করেই সিইও দফতরের পক্ষ থেকে আলাদা করে বছরভর বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের দরপত্র কেন? কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিল করতেই কি এই প্রক্রিয়া? এমনই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।