এক বিবৃতি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নিয়মিত আলাপ চালিয়ে যেতে তারা আগ্রহী। সেই সূত্রেই তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে সকাল ১১টায় আয়োজিত বৈঠকে ডাকা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত জুলাই মাসে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আরও সুগঠিত যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তারপরই তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন গত ২৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনকে (ECI) চিঠি লিখে সাংসদদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছিলেন। এই প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে (TMC Delegation) বৈঠকের জন্য ডাকল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে দিল্লির নির্বাচন সদনে।
এক বিবৃতি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নিয়মিত আলাপ চালিয়ে যেতে তারা আগ্রহী। সেই সূত্রেই তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে (TMC Delegation) সকাল ১১টায় আয়োজিত বৈঠকে ডাকা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে আরও চার জন সদস্য এই বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকবেন, তাঁদের নাম ও ব্যবহৃত গাড়ির বিবরণ কমিশনের নির্ধারিত ইমেল ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। সেটি ইতিমধ্যেই পাঠিয়েছে তৃণমূল।

প্রসঙ্গত, সোমবার দু’টি ‘উদ্বেগজনক’ সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে (Election Commission of India) কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই নিয়ে দ্বিতীয় চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। পরপর দুটি চিঠির পরই দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে (TMC Delegation) বৈঠকের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ECI) ডাকা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঠিক কী ইস্যুতে দ্বিতীয় চিঠি পাঠিয়েছিলেন? মমতা দু'টি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন - (১) সদ্য প্রকাশিত রিকোয়েস্ট অফ ফর্ম অনুযায়ী রাজ্যের সিইও দফতরের তরফে বাইরে থেকে ১,০০০ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের উদ্যোগ, (২) বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এতদিন ডেটা এন্ট্রি সংক্রান্ত জরুরি কাজের জন্য জেলা প্রশাসনই প্রয়োজনমতো অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করত। বর্তমানে BSK কর্মী এবং চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে কাজও চলছে স্বাভাবিকভাবেই।
তা হলে হঠাৎ করেই সিইও দফতরের পক্ষ থেকে আলাদা করে বছরভর বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের দরপত্র কেন? কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিল করতেই কি এই প্রক্রিয়া?— এমনই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।
তাঁর বক্তব্য, “যে দায়িত্ব এতদিন জেলা স্তরের অফিসেরা সামলাত, তা হঠাৎ করে কেন্দ্রীয়ভাবে সিইও দফতর কেন নিতে চাইছে? কেন কেন কেন?” এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘সময়সূচি ও উদ্দেশ্য— দুটোই সন্দেহজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।