SIR শুরুর আগের দিন ৩ নভেম্বর মাত্র ১০০ ফর্ম হাতে পেয়েছিলেন ওয়াহিদ আক্রাম । SIR শুরু হওয়ার দুদিন পরেই ২০০ ফর্ম তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করে দেন। তৃতীয় পর্যায়ে ৬০৬ টি ভোটারের ফর্ম হাতে পেয়ে তা কয়েক দিনের মধ্যেই সকলের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ফর্মগুলো পৌঁছানোর পর মানুষের বাড়ি বাড়ি থেকে সেগুলো সংগ্রহ করেছেন। এরপর রাত জেগে করে ফেলেছেন ডিজিটালাইজেশনের কাজ।

শেষ আপডেট: 25 November 2025 12:49
১৭ দিনে SIR ডিজিটালাইজেশনের কাজ শেষ করে নজির গড়লেন হাঁসখালির বিএলও ওয়াহিদ আক্রাম মণ্ডল। মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তাঁর দায়িত্বে থাকা ৮০৬ জন ভোটারের এসআইআর ফর্ম ফিলআপ করিয়ে তা ডিজিটালাইজেশনের কাজ শেষ করলেন তিনি।
কীভাবে মাত্র ১৭ দিনে এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন সহকর্মীরাও তা জানতে চাইছেন তাঁর কাছে। টিপস চাইছেন ফোন করে। কারণ তাঁরা যে এখনও প্রবল চাপে। আবার অনেকে কৌতুক করে তাঁকে 'বিএলওশ্রী' বলেও ডাকছেন। সে যাই হোক, মাত্র ১৭ দিনে কাজ শেষ করার জন্য হাঁসখালির ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সায়ন্তন ভট্টাচার্য বিডিও অফিসে ডেকে সংবর্ধনা দিয়েছেন ওয়াহিদ আক্রাম মণ্ডলকে।
গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে SIR ফর্ম ফিলআপের কাজ। তারপর থেকে এই নিয়ে নিত্যদিন চলছে টানাপড়েন। রাজনৈতিক দলগুলির তোলা নানা তর্কের পাশাপাশি বিএলওদের হরেক সমস্যাও প্রতিদিন খবরের শিরোনাম হচ্ছে। কাজের প্রবল চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন একাধিক বিএলও। অনেকে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছেন। তাই নিয়ে ডামাডোল চলছেই। সেই আবহেই অন্য নজির তৈরি করে ফেললেন হাঁসখালি ব্লকের বড় চুপরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াহিদ।
SIR শুরুর আগের দিন ৩ নভেম্বর মাত্র ১০০ ফর্ম হাতে পেয়েছিলেন ওয়াহিদ আক্রাম । SIR শুরু হওয়ার দুদিন পরেই ২০০ ফর্ম তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করে দেন। তৃতীয় পর্যায়ে ৬০৬ টি ভোটারের ফর্ম হাতে পেয়ে তা কয়েক দিনের মধ্যেই সকলের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ফর্মগুলো পৌঁছানোর পর মানুষের বাড়ি বাড়ি থেকে সেগুলো সংগ্রহ করেছেন। এরপর রাত জেগে করে ফেলেছেন ডিজিটালাইজেশনের কাজ।
ওয়াহিদ আক্রম জানান, SIR এর ফর্ম ফেরত আসার পর প্রতি রাতেই বসে সেরে ফেলতেন ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, "প্রথম থেকে আমি খুব তাড়াতাড়ি কাজটা শেষ করে ফেলব, এমন মনোভাব নিয়ে এগিয়েছি। একইসঙ্গে নিখুঁতভাবে কাজটা করতে হবে, সেটাও মাথায় ছিল। তাই যখনই যত ফর্ম ফেরত এসেছে রাত জেগে সেগুলি এন্ট্রি করেছি। পাড়ায় গিয়ে ভোটারদেরও তাড়াতাড়ি ফর্ম ভরে ফেলার জন্য অনুরোধ করেছি। তাই ৪ তারিখ কাজ শুরুর পর ২১ নভেম্বরের মধ্যেই আমার পুরো কাজ সারা হয়ে গেছে।"
১৭ দিনের মধ্যেই ডিজিটালাইজেশন এর যাবতীয় কাজ শেষ করে নদিয়া জেলাতেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। হাঁসখালির বড় চুপরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৭ জন। এদের মধ্যে তিনজনকে বিএলওর কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ওয়াহিদ আক্রাম। SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর হাঁসখালি ব্লকের বড় চুপরিয়া ৮৯/১০১ নম্বর বুথের বিএলওর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। দক্ষতা ও নিষ্ঠায় নিজের কাজ দ্রুত শেষ করে এখন খবরের শিরোনামে ওয়াহিদ।