প্রতিটি ব্লকে ERO ও BDO দফতরে হেল্প ডেস্ক খোলা রয়েছে। কোনও সমস্যা থাকলে সেখানেও জানানো যাবে।
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 19:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে, ঠিক তখনই সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হয়ে পরিস্থিতির বিস্তারিত ছবি তুলে ধরলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। বিএলওদের উপর অতিরিক্ত চাপ, মৃত্যু, বুথ পুনর্বিন্যাস থেকে শুরু করে নতুন বুথ তৈরির সম্ভাবনা—সব প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন তিনি। সঙ্গে বর্তমান কাজের অগ্রগতির পরিসংখ্যানও প্রকাশ করলেন।
রাজ্যের মোট বুথ সংখ্যা ৮০,৬৮১। ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি। সিইও জানান, ২৭ অক্টোবরের যে ঠিকানা ভোটারদের নামে নথিভুক্ত রয়েছে, সেই ঠিকানাতেই বিতরণ করা হয়েছে এনুমারেশন ফর্ম।
অ্যাডিশনাল সিইও অরিন্দম নিয়োগীর উপস্থিতিতেই তিনি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে এই বুথগুলির মধ্যে প্রায় ১৪,৯৯৭ বুথ নতুন করে তৈরি হতে পারে। কারণ, যেসব বুথে ১,২০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেগুলিকে পুনর্বিন্যাস করতেই এই অতিরিক্ত বুথের প্রয়োজন। এতে সাহায্য করতে বহু জেলায় ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান মনোজ আগরওয়াল।
সিইও জানান—১,৫৩,৫৪১ জন বিএলও কাজ করছেন মাঠে। গত ২০ দিনে তাঁদের কাজ—ফর্ম বিলি, সংগ্রহ, যাচাই—অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে এগিয়েছে। তিনি বলেন, “বিএলওরা হিরোর মতো কাজ করেছেন। সময়মতো সবার কাছে পৌঁছনো সহজ নয়।”
এ পর্যন্ত ৪.৫৫ লক্ষ ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়েছে, যা মোটের প্রায় ৫৯.৪ শতাংশ।
তবে ১০ লক্ষ ৩৩ হাজার ফর্ম এখনও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। কারণ—অ্যাবসেন্ট ভোটার, মৃত্যু, ডুপ্লিকেট, অথবা যারা স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
ফর্ম সংগ্রহ ও ডিজিটাইজেশনে এগিয়ে থাকা জেলার তালিকায় শীর্ষে পূর্ব বর্ধমান (৬৬.৪৭%)। পরেই আলিপুরদুয়ার (৬৬.৪১%), উত্তর দিনাজপুর (৬৫.৪৪%), মালদহ (৬৫.২৩%), পূর্ব মেদিনীপুর (৬৫.২৭%)। শীর্ষ পারফর্মিং কেন্দ্র ২০টি—তাদের মধ্যে রয়েছে গোসাবা, ক্যানিং, ফলতা, কাকদ্বীপ, সাগর, পিংলা, সবং, ভাঙর, মগরাহাট পশ্চিম প্রভৃতি। ১২১ জন বিএলও ইতিমধ্যেই ১০০% কাজ শেষ করেছেন। আর ৯০%-এর বেশি কাজ করেছেন ৫৭৪২ জন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিএলওদের উপর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে বিতর্ক বাড়তেই সিইও স্পষ্ট করে জানান, “চার তারিখের আগেই কাজ শেষ করতে হবে—এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শুধু অনুরোধ করা হয়েছে, যদি সম্ভব হয় দ্রুত শেষ করতে।”
প্রসঙ্গত, অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে এদিনই সিইও অফিসে বিক্ষোভ দেখান বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি। রীতিমতো সিইও অফিসের মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ দিয়ে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। তারপরই কমিশনের তরফ থেকে অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে বিএলওদের মৃত্যু সংক্রান্ত প্রশ্নে সিইও বলেন, কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সেই জেলার ডিইওদের কাছ থেকে রিপোর্ট (পোস্টমর্টেম সহ) চাওয়া হয়েছে। রিপোর্ট মিললে ইসিআইকে পাঠানো হবে।
ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ প্রসঙ্গে সিইও জানান, ইসিআই আগেই জানিয়েছিল, কনট্রাকচুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ব্যবহার করা যাবে না—সেই নিয়মই মানা হয়েছে।
আবাসনে বুথ করা নিয়ে প্রশ্নে সিইও বলেন, “এটা পুরোপুরি ইসিআই-র নীতি। রাজ্যের এক্তিয়ার নয়।” সিএএ ক্যাম্প নিয়ে কমিশনের কোনও ভূমিকা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। এখনও ম্যাপিং সম্পূর্ণ হয়নি প্রায় ১৮.৫৮ লক্ষ ভোটারের। তবে কাজ চলছে বলেই জানান সিইও।
বদলি, শাস্তি, অভিযোগ—সব প্রশ্নে নির্বাচন দফতরের অবস্থান স্পষ্ট করে সিইও বলেন, কোনও বিএলও অসুস্থ হলে বদলি করা যাবে জেলা স্তরেই—ডিইও বা ইআরও নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ইচ্ছাকৃত ভুল বাদে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শেষে বিএলওদের আশ্বস্ত করে সিইও আবারও বলেন—“এক লক্ষেরও বেশি মানুষ মাঠে কাজ করছেন। কোথাও ভুলভ্রান্তি হলে ঠিক করা হচ্ছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকলেই হল।”