ডিপ টিউবওয়েলের জল নিরাপদ ভাবার দিন শেষ। সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে সামনে ভয়াবহ সঙ্কট।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিপ টিউবওয়েলের (poison in deep tubewell water) জল মানেই নিরাপদ—বহুবছরের এই ধারণা ভেঙে দিল দুর্গাপুর এনআইটির গবেষণা। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দামোদর অববাহিকার ভূগর্ভস্থ জলে মিলেছে এক, দু’টি নয়—জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১২ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (12 Antibiotics in Damodar Groundwater)! যা সরাসরি পান করার ফলে মানুষের শরীরে তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স। অর্থাৎ, যে ওষুধগুলি রোগ সারানোর কথা, সেই ওষুধই ধীরে ধীরে শরীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
গবেষণার সূত্রে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। দামোদর নদীতে তেজস্ক্রিয় পদার্থের খোঁজ করতে গিয়ে নদীর জলেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এবার দেখা গেল, সেই দূষণ মিশে গিয়েছে ভূগর্ভস্থ জলেও—যেখান থেকে সরাসরি পানীয় জল তুলে পান করেন মানুষ। নদীর জল যেমন পরিস্রুত হয়ে পাইপ লাইনে আসে, ভূগর্ভস্থ জলে তেমন কোনও ফিল্টার নেই। ফলে বিপদ বহুগুণ বাড়ছে।
গবেষক দলটি দামোদর অববাহিকার ৭৩৫টি জায়গা থেকে ভূগর্ভস্থ জলের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে পূর্ণবয়স্ক ও শিশু—দুই শ্রেণির জন্য আলাদা আলাদা গ্রাফ। দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিম্ন দামোদর এলাকায়—যেখানে ভূগর্ভস্থ জলে অ্যান্টিবায়োটিকের ঘনমাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে ভূগর্ভস্থ জলে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। যদি এই বৃদ্ধির হার না কমে, তা হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বৃদ্ধি হতে পারে ২০২ শতাংশ! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে জল দূষণের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে এই অ্যান্টিবায়োটিক-দূষণ, যার জেরে ক্যান্সারসহ বহু জটিল রোগ দ্রুত বাড়তে পারে।
দূষণের উৎসও চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তাঁদের দাবি, পোলট্রি ফার্মে দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু মুরগি নয়—শুয়োর, ভেড়া, গরুও এর আওতায়। পাশাপাশি মানুষের মধ্যেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার বেড়েছে বহু গুণ।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুর এনআইটির ফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক হীরক চৌধুরী, গবেষক রাজলক্ষ্মী নাথ এবং রাশিয়ার বিজ্ঞানী কঙ্কনা শীল—তিনজন মিলে এই গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। ১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকা এনভিরন জিওকেম হেলথ-এ প্রকাশ পেয়েছে তাঁদের গবেষণা।
হীরকবাবুর কথায়, “কয়েকটি এলাকায় এখনই ভূগর্ভস্থ জল তোলা বন্ধ করতে হবে। না হলে বিপদ সামাল দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে দরকার উন্নত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট।”
দুর্গাপুর এনআইটির গবেষণা তাই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ডিপ টিউবওয়েলের জল নিরাপদ ভাবার দিন শেষ। সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে সামনে ভয়াবহ সঙ্কট।