শহরবাসীর মতে, এই ঘটনার পর নেহাতই এক বন্দির মুক্তি নয়, বরং এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। সুব্রতের হাতে তুলে দেওয়া অটো আসলে এক প্রতীক—পুনর্গঠনের, নতুন শুরুর, আর দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার অধিকারবোধের।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 5 September 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ তেত্রিশ বছর জেলের অন্ধকার পেরিয়ে অবশেষে খোলা আকাশের নীচে ফিরলেন সুব্রত সরকার (Return to society after 33 years of Imprisonment)। দক্ষিণ কলকাতার এই মানুষটি আজ থেকে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন এবং প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার তাঁকে হাতে তুলে দিল একেবারে নতুন অটো (Administration handed over the auto)। রাসবিহারী থেকে বেহালা রুটে প্রতিদিন এই অটো চালিয়েই রুজির পথ খুঁজবেন সুব্রত।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় সুব্রত সরকারের। সেই অপরাধের বোঝা বয়ে নিয়ে গত ৩৩ বছর তিনি কাটিয়েছেন জেলের অন্তরালে। লম্বা বন্দিদশার পর যখন অবশেষে মুক্তির প্রহর এল, তখন সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ শুধু তাঁকে মুক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি, সমাজে ফেরার পথে তাঁকে স্বনির্ভর করার দায়িত্বও নিয়েছে। তাই তাঁকে দেওয়া হয়েছে এই অটোচালনার সুযোগ।
অটো হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত সুব্রত বলেন, “আমার মত মানুষ যখন এতদিন পর সমাজে ফিরে আসবে, তখন যদি পাশে দাঁড়ায় সরকার ও প্রশাসন, তবে নতুন করে বাঁচার সাহস পাওয়া যায়। আমি চাই অন্যরাও যেন আবার অন্ধকার জীবনে না ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনে টিকে থাকতে পারে।”
প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের এক আধিকারিক জানান, শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বন্দিদের সংশোধন করাও তাঁদের দায়িত্ব। তাই মুক্তির পর তাঁদের পুনর্বাসনের পথ খোলা রাখা প্রয়োজন। সুব্রত সরকারের ক্ষেত্রে অটো দেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রয়াসেরই প্রতিফলন।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পরে সমাজে ফিরে আসা সহজ নয়। অনেকেই অতীতের কালো ছায়া থেকে বেরোতে পারেন না। কিন্তু সুব্রত সরকারের জীবনে প্রশাসনের এই উদ্যোগ যেন এক নতুন ভোর।
দক্ষিণ কলকাতার রাস্তায় এখন থেকে যখনই দেখা যাবে তাঁর চালানো অটো, তখনই মনে পড়বে—অন্ধকারের পরেও আলোয় ফেরার সুযোগ থাকে, যদি পাশে দাঁড়ায় সমাজ ও প্রশাসন!
শহরবাসীর মতে, এই ঘটনার পর নেহাতই এক বন্দির মুক্তি নয়, বরং এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। সুব্রতের হাতে তুলে দেওয়া অটো আসলে এক প্রতীক—পুনর্গঠনের, নতুন শুরুর, আর দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার অধিকারবোধের।