বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ চাকরি বাতিলের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। আপাতত স্বস্তি ৩১৩ জন শিক্ষকের।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 24 December 2025 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam in Hills) ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এরফলে আগামী ১২ সপ্তাহ শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি চলছিল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। গত সপ্তাহে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গেল বেঞ্চ। একইসঙ্গে সিআইডি তদন্ত চলবে বলেও জানিয়েছিলেন বিচারপতি।
গতকাল (২৩ ডিসেম্বর) সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় জিটিএ (Gorkhaland Territorial Administration)। এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে। সূত্রের খবর, জিটিএ আদালতে দাবি করেছে, সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেই কারণে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন।
বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ চাকরি বাতিলের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। আপাতত স্বস্তি ৩১৩ জন শিক্ষকের।
গত বুধবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গেল বেঞ্চে পাহাড়ে দুর্নীতি মামলার শুনানি হয়েছিল। বিচারপতি শুনানি শেষে নির্দেশ দেন, ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি আর থাকবে না। এছাড়াও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির (Recruitment Scam) অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত (CID investigation in Job Scam) চলবে বলেও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বিচারপতি জানিয়েছিলেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তদন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার (Recruitment) সত্যতা সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে এই অভিযোগে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর বিধাননগর উত্তর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি হাইকোর্টে পৌঁছায়।
হাইকোর্টের বিচারপতি বসুর সিঙ্গেল বেঞ্চ অভিযোগ নিয়ে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে যায়। কিন্তু সেখানে রাজ্যের আবেদন খারিজ হয়। বিচারপতি হরিশ টন্ডন ও বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রাখে। যদিও রাজ্য পুলিশকে নিজেদের তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এরপর রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায়। শীর্ষ আদালত রাজ্যের যুক্তিকে গুরুত্ব দেয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, হাইকোর্ট খুব তাড়াহুড়ো করে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে হাইকোর্টের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।