যে ওষুধকে এতদিন জীবনরক্ষক ভেবে খেয়েছেন, সেই ওষুধই যদি মান নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষায় ফেল করে?

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 24 December 2025 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্বর উঠলেই প্যারাসিটামল। অম্বল বা গ্যাসের যন্ত্রণা থাকলে সকালেই প্যান-ডি বা প্যান-৪০, শহর থেকে মফস্বল, অগণিত মানুষের প্রতিদিনের অভ্যেস। কিন্তু যে ওষুধকে এতদিন জীবনরক্ষক ভেবে খেয়েছেন, সেই ওষুধই যদি মান নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষায় ফেল করে? নভেম্বরের মাসিক গুণমান রিভিউ রিপোর্ট যেন সেই অস্বস্তিকর ছবিই তুলে ধরল।
সিডিএসসিও-র (Central Drugs Standard Control Organisation) তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পরীক্ষিত ওষুধের মধ্যে ২০৫টি নমুনা ‘স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটির নীচে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে, ৬৪টি নমুনা ফেল করেছে সেন্ট্রাল ড্রাগস ল্যাবে। ১৪১টি নমুনা ফেল করেছে স্টেট ড্রাগস টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে।
এরই মাঝে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য, চণ্ডীগড়ের রিজিওনাল ড্রাগস টেস্টিং ল্যাবরেটরি গাজিয়াবাদ থেকে সংগৃহীত নমুনার দুটি ব্যাচকে সরাসরি ‘স্পুরিয়াস’ (নকল) বলে চিহ্নিত করেছে।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী স্পুরিয়াস হিসেবে ধরা পড়েছে দুই বহুল বিক্রিত ব্র্যান্ড প্যান-৪০ (Pantoprazole Gastro-Resistant Tablet) এবং টেলমা-৪০ (Telmisartan Tablet)।
সিডিএসসিও জানাচ্ছে, আসল ব্র্যান্ড-নেম ও প্যাকেটে নকল ব্যাচ বাজারে ছাড়া হচ্ছিল। প্রস্তুতকারক সংস্থারা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে,
উদ্ধার হওয়া ওই ব্যাচ তাদের কারখানায় তৈরি হয়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
শুধু এই দু’টি ব্র্যান্ড নয়, মান পরীক্ষায় প্রশ্ন উঠেছে আরও বহু দৈনন্দিন ব্যবহারের ওষুধ নিয়ে। যার মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামল, প্যান্টোপ্রাজাল, বিভিন্ন কাফ সিরাপ, মাল্টিভিটামিন-সহ একাধিক জেনেরিক ও ব্র্যান্ডেড ওষুধ।
উল্লেখযোগ্য, এর আগেও গত বছর অগস্ট মাসে প্যারাসিটামল ও প্যান-ডি-সহ ৫৩টি ওষুধ পরীক্ষায় ফেল করেছিল। ওষুধ নিরাপত্তা নিয়ে তাই নতুন করে প্রশ্ন, রোগ সারাতে যে ওষুধ খাচ্ছেন, তা আদৌ ভরসাযোগ্য তো? নাকি অজান্তেই বাড়ছে শরীরের ঝুঁকি?