সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী পাহাড়ে একাধিক নিয়োগ বাতিল হওয়ার কথা ছিল। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে এবার আইনি লড়াইয়ে নামল জিটিএ।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 23 December 2025 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam in Hills) নতুন মোড়। গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের যে নির্দেশ দিয়েছিল, সেই রায়ের বিরুদ্ধে এবার ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করল জিটিএ (Gorkhaland Territorial Administration)। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার জিটিএ-র তরফে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলার শুনানি হবে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে।
সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী পাহাড়ে একাধিক নিয়োগ বাতিল হওয়ার কথা ছিল। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে এবার আইনি লড়াইয়ে নামল জিটিএ। সূত্রের খবর, তারা আদালতে দাবি করেছে, সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেই কারণে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন।
গত বুধবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গেল বেঞ্চে পাহাড়ে দুর্নীতি মামলার শুনানি হয়েছিল। বিচারপতি শুনানি শেষে নির্দেশ দেন, ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি আর থাকবে না। এছাড়াও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির (Recruitment Scam) অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত (CID investigation in Job Scam) চলবে বলেও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বিচারপতি জানিয়েছিলেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তদন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার (Recruitment) সত্যতা সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)–র আওতাধীন পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছিল। অভিযোগ ছিল, নিয়ম না মেনে বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও নাম জড়ায়। পাশাপাশি বিনয় তামাং এবং তৃণমূল যুব নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, যোগ্যতা যাচাই না করেই নিয়োগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, কে যোগ্য আর কে অযোগ্য, তার স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
প্রথমে এই মামলায় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গেল বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের (CBI in Hills Recruitment Scam) নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তবে ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নির্দেশই বহাল রাখে। এরপর রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যায়। সেখানে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য বিষয়টি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
বুধবার ফের মামলার শুনানি হয় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে। শুনানিতে বিচারপতি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যাঁদের নিয়োগ নিয়ে এত প্রশ্ন, তাঁদের বেতন রাজ্য কেন দেবে? তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী?”
এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি নির্দেশ দেন, যাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের চাকরি আর বহাল থাকবে না। একইসঙ্গে ওইদিনই সিআইডি তদন্ত চলবে বলেও জানান।