এই টানাপড়েনে স্পষ্টতই বিরক্ত আদালত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, জানুয়ারি না ফেব্রুয়ারি, এই দু’মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঝুলিয়ে রাখার আর অবকাশ নেই। রাজ্যকে চূড়ান্ত দিন জানাতে হবে কবে থেকে কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 December 2025 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিংড়িঘাটায় মেট্রো (Chingrighata Metro) কি আদৌ চলবে? কবে কাটবে জট? এই প্রশ্নেই দিন গুনছেন শহরবাসী। কিন্তু হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে ডাকা যৌথ বৈঠকেও মিলল না কোনও স্পষ্ট পথ। সিদ্ধান্তহীনতায় ঝুলেই রইল চিংড়িঘাটা মেট্রোর ভবিষ্যৎ।
চিংড়িঘাটা মেট্রো মামলায় আদালতের নির্দেশে রাজ্য, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নিয়ে যে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। বরং বৈঠকের পর আদালতে জমা পড়ল শুধু আলোচনার সারমর্ম। সমাধানসূত্র অধরাই।
RVNL-এর আইনজীবীর অভিযোগ, রাজ্যের অসহযোগিতার কারণেই কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, অনুমতি না মিললে প্রকল্প এগোনো কার্যত অসম্ভব। অন্য দিকে রাজ্যের অবস্থান অনড়।
রাজ্যের তরফে প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত স্পষ্ট জানান, জানুয়ারি মাসে কোনও ভাবেই কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন গঙ্গাসাগর মেলার কথা। তাঁর বক্তব্য, মেলার বিপুল জনসমাগম ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফেব্রুয়ারির আগে অনুমতির প্রশ্নই ওঠে না।
এই টানাপড়েনে স্পষ্টতই বিরক্ত আদালত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, জানুয়ারি না ফেব্রুয়ারি, এই দু’মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঝুলিয়ে রাখার আর অবকাশ নেই। রাজ্যকে চূড়ান্ত দিন জানাতে হবে কবে থেকে কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব।
প্রসঙ্গত, চিংড়িঘাটা মেট্রো সম্প্রসারণ বহুদিন ধরেই আটকে। নিউ গড়িয়া–বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের বেলেঘাটা থেকে গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশের কাজ এখনও থমকে। কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের দাবি, রাস্তা বন্ধের অনুমতি না মেলাতেই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। নভেম্বরে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তার কিছুই হয়নি।
এই নিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দার জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতেই আদালত একাধিক বৈঠক ডেকেছিল। তখন রাজ্য সরকার এবং পুলিশের তরফে সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি বলেই দাবি আবেদনকারীর। সেই মামলাতেই সব পক্ষকে আলোচনায় বসে দ্রুত সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
তবে এদিন সমাধান সূত্র বের না হওয়ায় আদালতের নির্দেশ, আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগেই রাজ্যকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, কোন দিন থেকে সবুজ সঙ্কেত মিলবে।