নিউটাউনে (New Town ) স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় তাঁর আগাম জামিন বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)।

বিডিও প্রশান্ত বর্মন
শেষ আপডেট: 22 December 2025 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজগঞ্জের ‘বিতর্কিত’ বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আইনি জট আরও ঘনীভূত হল। নিউটাউনে (New Town ) স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় তাঁর আগাম জামিন বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। শুধু তাই নয়, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন— আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিধাননগর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে প্রশান্ত বর্মনকে।
এদিন শুনানিতে নিম্ন আদালতের ভূমিকা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, খুনের মতো গুরুতর অপরাধে জামিন বা আগাম জামিন দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলি বিচার করা প্রয়োজন, সেগুলির কোনওটাই নিম্ন আদালত খতিয়ে দেখেনি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ উপেক্ষা করেই অভিযুক্তকে আগাম জামিন (Bail) দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতের মত। সেই কারণেই ওই নির্দেশ খারিজ করা হয়েছে বলে জানান বিচারপতি।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় তাঁর পরিবারের তরফে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের (Prashanta Burman) বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ এমন একাধিক তথ্যপ্রমাণ পায়, যাতে বিডিওর ভূমিকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই মামলায় বিডিও ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনের খোঁজ পেতে দীর্ঘদিন বেগ পেতে হয় পুলিশকে।
এর মধ্যেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত বর্মন। সেই আবেদন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালত। পরে বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজিরা দিয়ে আগাম জামিন কার্যকর করেন তিনি। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এরপরই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য সরকার। সেই মামলার শুনানিতে আগেও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট। সোমবার ফের সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে। শুনানি শেষে দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিন খারিজ করে দেয় আদালত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের নীলদা পোস্ট অফিস এলাকার দিলামাটিয়ার বাসিন্দা। দত্তাবাদে তাঁর সোনার গয়নার দোকান ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর দোকান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে নিউটাউনের যাত্রাগাছি সংলগ্ন বাগজোলা খালপাড়ের ঝোপ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার দেহ শনাক্ত করে। তাঁদের দাবি, অপহরণ করে খুন করা হয়েছে স্বপন কামিল্যাকে।