সূত্রের খবর, জেলে থাকাকালীন সঞ্জয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় রাকেশ দাস নামে এক দুষ্কৃতীর। রাকেশ ২০২২ সালে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক দাস খুনের মূল অভিযুক্ত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 October 2025 11:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরানগরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নৃশংস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য বাড়ছে (Baranagar Murder Case)। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক তথ্য- এই হত্যাকাণ্ডের ছক নাকি কষা হয়েছিল জেলের ভিতরেই! পুলিশের দাবি, প্রতারণা মামলায় জেলবন্দি সঞ্জয় মাইতি নামের এক ব্যক্তিই পুরো পরিকল্পনার মূলচক্রী।
সূত্রের খবর, জেলে থাকাকালীন সঞ্জয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় রাকেশ দাস নামে এক দুষ্কৃতীর। রাকেশ ২০২২ সালে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক দাস খুনের মূল অভিযুক্ত। সেই থেকেই দু'জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। জেলেই তারা একযোগে নতুন অপরাধের ছক তৈরি করে, টার্গেট করা হয় বরানগরের (Baranagar Murder Case) সোনাপট্টির একটি সোনার দোকান।
জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সঞ্জয় যোগাযোগ করে নারকেলডাঙার বাসিন্দা সুরজিৎ সিকদারের সঙ্গে। দু’জনে মিলে দোকানের রেইকি করে দেখে যে, দুপুরের দিকে ষাটোর্ধ্ব দোকান মালিক শঙ্কর জানা প্রায়শই একাই দোকানে থাকেন। এই তথ্য পেয়ে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের তিনজন দুষ্কৃতীকে দলে টেনে আনে সঞ্জয়।
শনিবার দুপুরে ক্রেতা সেজে তারা ঢোকে বরানগর শম্ভুনাথ দাস লেনের ‘সরস্বতী চেন অ্যান্ড অর্নামেন্টস’-এ। দোকানের ভিতরে প্রবেশের পর গয়না দেখার অছিলায় সঞ্জয় মোবাইলে ‘কোড মেসেজ’ পাঠায় তার সহযোগীদের। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় দুঃসাহসিক ডাকাতি।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ কেজি সোনা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা, লুট করা হয় দোকান থেকে। এরপর ভারী লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় শঙ্কর বাবুকে। তার পা বেঁধে দোকানের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ঘটনার তদন্তে নেমে বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ সঞ্জয় ও সুরজিৎকে গ্রেফতার করে। সোমবার আদালতে পেশ করা হলে ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানা গিয়েছে, খুনে জড়িত দুষ্কৃতীরা বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছিল রাকেশ দাসের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
এদিকে সোমবার এলাকায় এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন বরানগরের বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি সোনাপট্টিতে অতিরিক্ত পুলিশি টহল ও সিসিটিভির নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের অপরাধ ঘটাতে সাহস না পায়।