ঘটনার পর থেকেই একাধিক রাজনৈতিক নাম উঠে এসেছে তদন্তে। কোচবিহার-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সজল সরকারকে আগেই গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 November 2025 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউনের (Newtown) দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী (Gold Trader) অপহরণ (Kidnapping) ও খুনের (Murder) তদন্ত আরও জটিল আকার নিচ্ছে। ঘটনার সূত্র ধরে এবার কোচবিহার (Coochbehar) থেকে ধরা পড়ল চতুর্থ অভিযুক্ত বিবেকানন্দ সরকার। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল সে এবং মারধরেও সরাসরি অংশ নিয়েছিল। পুন্ডিবাড়ি থেকে আরেক অভিযুক্তকে পাকড়াও করার পরেই তার নাম উঠে আসে পুলিশের হাতে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে ৫ থেকে ৬ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা গেছে। এদিকে প্রকাশ্যে এসেছে নতুন কিছু সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage)। তাতে দেখা যাচ্ছে, নীলবাতি (Blue Light) লাগানো দু’টি কালো-সাদা গাড়ি দত্তাবাদ রোড দিয়ে ঢুকছে। স্থানীয়দের দাবি, এই দু’টি গাড়িতেই স্বপন কামিল্যা ও বাড়ির মালিক গোবিন্দ বাগকে জোর করে তোলা হয়। পাশের দোকান থেকেও উদ্ধার হয়েছে আরও কয়েকটি ফুটেজ, যা এখন পুলিশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই একাধিক রাজনৈতিক নাম (Political Names) উঠে এসেছে তদন্তে। কোচবিহার-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সজল সরকারকে আগেই গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ (Bidhannagar Police)। তদন্ত সূত্রে খবর, প্রথম দুই ধৃতকে জেরা করে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার ভিত্তিতেই সজলের বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের যোগের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।
এই মামলায় অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধেও। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর কলকাতার গাড়ির চালক রাজু ঢালি এবং ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার তুফান থাপাকে। পুলিশের দাবি, রাজুর মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় - বাঁশ, লাঠি এবং বেল্ট দিয়ে নির্মমভাবে মারা হচ্ছে স্বপন কামিল্যাকে। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা (TMC Leader) সজল সরকারও। এই ভিডিওর ভিত্তিতেই বুধবার শিলিগুড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বিধাননগর কমিশনারেট।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে নীলবাতি লাগানো একটি ফরচুনার গাড়ির তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, এই গাড়িতেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে প্রথমে অপহরণ করা হয় এবং পরে খুনের পর দেহ পাচারের চেষ্টা চলে। ধৃতদের জেরা করে ওই গাড়ির সন্ধান মেলে পুলিশের।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য, নতুন নাম এবং আরও বড় অপরাধচক্রের ইঙ্গিত।