এর মধ্যেই কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির আঁচ ছড়িয়েছে মাঠে-ঘাটে কাজ করা ব্লক লেভেল অফিসারদের (বিএলও)। তাঁদের ক্ষোভ, ফর্ম বিলির পরে হঠাৎ নিয়ম বদল তাঁদের কাজকে আরও জটিল করে তুলছে।
_0.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন (Big change in SIR)। এত দিন ইনিউমারেশন ফর্মে আত্মীয়ের পরিচয় হিসাবে ব্যবহার করা যেত বাবা, মা, ঠাকুরদা (পিতামহ) বা ঠাকুরমার (পিতামহী) নাম। শেষ মুহূর্তে সেই নিয়মই বদলে দিল কমিশন। এখন থেকে আত্মীয় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে মায়ের বাবা—দাদু, এবং মায়ের মা—দিদিমার নামও। শুধু তাই নয়, চাইলে লেখা যাবে দাদা, মামা, কাকার নামও (Grandparents, uncles and cousins will be included as 'relatives' in the enumeration form)। কমিশন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
রাজ্যের সর্বত্র ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। শুরু হয়েছে ফর্ম জমাও। এর মধ্যেই কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির আঁচ ছড়িয়েছে মাঠে-ঘাটে কাজ করা ব্লক লেভেল অফিসারদের (বিএলও)। তাঁদের ক্ষোভ, ফর্ম বিলির পরে হঠাৎ নিয়ম বদল তাঁদের কাজকে আরও জটিল করে তুলছে।
কমিশনের যুক্তি, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছিল—২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বহু মানুষের বাবা-মা বা পিতৃকুলের নাম নেই। বরং রয়েছে মাতৃকুলের সদস্যদের নাম—দাদু, দিদিমা কিংবা মামাদের। সেই সব ক্ষেত্রেই ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। তাই তালিকায় কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বাদ না পড়েন, সে জন্যই নিয়মের শিথিলতা।
কমিশনের এক কর্তার কথায়, “যোগ্য ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ না যায়, সেই কারণেই আত্মীয়ের তালিকা বিস্তৃত করা হয়েছে।”
কিন্তু বিএলওদের বক্তব্য, সমস্যা অন্য জায়গায়। তাঁদের একাংশের দাবি, ভোটার যদি আত্মীয় হিসেবে দাদু বা মামার নাম উল্লেখ করেন, সেই নাম মিলিয়ে দেখতে হবে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওই তালিকা তাঁদের হাতে নেই। ফলে দায়িত্ব এবং ঝুঁকি—দুটোই বাড়ছে মাঠের কর্মীদের উপর। ভুল হলে জবাবদিহিও তাঁদেরই।
এক বিএলওর ক্ষুব্ধ মন্তব্য, “ফর্ম বিলির পর কেন এই নিয়ম পরিবর্তন? ডেটা এন্ট্রির চাপই কম নয়, তার উপর আত্মীয় যাচাইয়ের নতুন বোঝা। ভুল হলে দায় আমাদেরই। এটা কি ন্যায্য?”
জেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, নিয়ম শিথিল হলেও তা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক ইআরও-এইআরওরা। নীরবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—বাবা, মা, ঠাকুরদা ও ঠাকুরমার নাম লিখতেই ভোটারদের উৎসাহ দিতে হবে। অন্য আত্মীয়ের নাম যদিও আইনসিদ্ধ, কিন্তু তা যেন না লেখেন, সেটাই ‘ব্যাকরুম’ নির্দেশ।
কমিশনের নতুন নির্দেশে ভোটারদের পথ খুললেও, মাঠের কর্মীদের কাজ যে আরও ঘোলাটে হয়ে গেল, সে বিষয়ে কোনও সংশয় নেই।