মাদারিহাট, মধ্য খয়েরবাড়ি, কুমারগ্রাম ও আশপাশের গ্রামগুলিতে এখন কার্যত আতঙ্কের ছায়া। সূর্য ডুবলেই পথঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। চা-বাগানের শ্রমিকদের অনেকেই সন্ধের পর ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 09:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটে (Madarihat, North Bengal) ফের হাতির (Elephant) তাণ্ডব। রামঝোরা চা বাগানে দলছুট একটি বুনো হাতির হামলায় মৃত্যু হল এক মহিলার (Woman dies)। সোমবার গভীর রাতে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনাটি। চা-বাগানের শ্রমিক আবাসের কাছে আচমকা হাজির হয় হাতিটি। স্থানীয়দের কথায়, মৃত মহিলা ঘরের বাইরে বেরোতেই হাতিটি তেড়ে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে পিষ্ট করে দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, গত অক্টোবরেই একই অঞ্চলে বুনো হাতির হামলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পরেও এলাকায় হাতি আসার প্রবণতা কমেনি। বরং শীতের শুরুতেই এই অঞ্চলে হাতির আনাগোনা আরও বেড়ে গিয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
মাদারিহাট, মধ্য খয়েরবাড়ি, কুমারগ্রাম ও আশপাশের গ্রামগুলিতে এখন কার্যত আতঙ্কের ছায়া। সূর্য ডুবলেই পথঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। চা-বাগানের শ্রমিকদের অনেকেই সন্ধের পর ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। রামঝোরা বাগানের শ্রমিক, বাসিন্দা মিনা দেবী বলেন, “সন্ধে হলেই বুক ঢিপঢিপ করে। কখন যে কোথা থেকে হাতি হাজির হবে—বলা যায় না”।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বন দফতরের টহলদারি থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। দূর্গম চা-বাগান অঞ্চল ও গ্রামের ভেতরে টহলদারি বাড়ানো প্রয়োজন। “হাতি তাড়ানোর জন্য আলো, সাইরেন বা ব্যারিকেড—কিছুই ঠিকঠাক কাজ করছে না। লোকালয়ের এত কাছে হাতি ঢুকে পড়লে মানুষ কীভাবে বাঁচবে?” প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীরা।
বনদফতরের তরফে জানানো হয়েছে, হাতিটি সম্ভবত দলছুট অবস্থায় লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। দ্রুত চা-বাগান এলাকা থেকে হাতিটিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পাশাপাশি শীতের মরসুমে হাতির গতিবিধি বাড়ায় এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টহলদারি বাড়ালেই হবে না। হাতির স্বাভাবিক চলাচলের পথ চিহ্নিত করা, চা-বাগান ও জনবসতির মধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা এবং হাতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ—এসব না হলে বিপদ থামবে না।
ক্রমাগত মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা—“এ ভাবে চলতে থাকলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে কতক্ষণ?”