স্থানীয়দের দাবি, লেলহে মাছির ঝাঁক একবার আক্রমণ শুরু করলে মুহূর্তে দেহে অসংখ্য হুল ফুটিয়ে দেয়। শুরু হয় প্রচণ্ড জ্বালা ও ব্যথা—অনেকে সেই যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরে (Durgapur) মৌমাছির হামলায় এক প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের একই ভয়াবহ ঘটনা পুরুলিয়ায় (Purulia)। রবিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে (Morning Walk) লেলহে মাছির (বড় আকৃতির আঞ্চলিক মৌমাছি/ Bee) আক্রমণে প্রাণ হারালেন ৬৮ বছরের অবসরপ্রাপ্ত আয়কর দফতরের কর্মী শীতল মিশ্র (Elderly man dies)। কাশীপুর থানা এলাকার সিমলা গ্রামের বাসিন্দা শীতলবাবুর অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোরের আলো ফুটতেই প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন শীতলবাবু। কিছু দূর এগোতেই আচমকা লেলহে মাছির ঝাঁক তাঁর উপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তে সংজ্ঞা হারিয়ে রাস্তার মাঝেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়েরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা জানান, ততক্ষণে সব শেষ।
শীতলবাবুর ভাই তপন মিশ্র জানান, “নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি না-ফেরায় আমরা প্রথমে ভাবি দাদা হয়তো কারও বাড়ি গিয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই খবর পাই, তিনি রাস্তায় পড়ে রয়েছেন। গিয়ে দেখি সারা শরীরে বড় বড় মৌমাছি কামড়ে দিয়েছে—মুখ, গলা, বুক কোথাও বাদ নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, লেলহে মাছির ঝাঁক একবার আক্রমণ শুরু করলে মুহূর্তে দেহে অসংখ্য হুল ফুটিয়ে দেয়। শুরু হয় প্রচণ্ড জ্বালা ও ব্যথা—অনেকে সেই যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, এপিস ডোরাস্টা নামে পরিচিত এই প্রজাতির মৌমাছি আকারে বড় এবং আক্রমণাত্মকও হয়। পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক নয়ন মুখোপাধ্যায় বলেন, “ঝাঁকে ঝাঁকে হুল ফোটালে শরীরে টক্সিন ছড়িয়ে রক্ত থেকে জলীয় অংশ দ্রুত কমে যায়। রক্তকণিকা ফুলে ওঠে, রক্তচাপ হঠাৎই নেমে যায়—একে হাইপোভলিমিয়া বলা হয়। এর সঙ্গে দ্রুত ফুলে ওঠে গলা ও শ্বাসনালি। ফলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মুহূর্তে ঘটতে পারে মৃত্যু।”