মন্ত্রকের ২০২৫–২৬ সালের অ্যাকশন প্ল্যানের ৯ নম্বর পয়েন্টে এই নয়া প্রস্তাব স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। এমনকি ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্য রাজ্যগুলিকে সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 10:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এখন মাসে প্রায় ১৬ দিন ধরে চলে ‘দুয়ারে রেশন’ পরিষেবা (Ration at the door)। নির্দিষ্ট দিনে বাড়িতে রেশন না পেলে বা কেউ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে না পারলে শনি–রবিবার রেশন দোকান থেকে সহজেই খাদ্যশস্য নেওয়ার সুযোগ থাকে। এর ফলে গ্রাহকদের কোনও অসুবিধা হয় না, এটাই ছিল পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু এই সুবিধাই এবার প্রশ্নের মুখে।
কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রক জানিয়েছে—দেশের সব রাজ্যে একটিই নিয়ম চলবে, আর সেই নিয়ম হবে ‘অসম মডেল’ (Center , Assam model)। অর্থাৎ, প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখ, শুধুমাত্র এই দশ দিনই রেশন মিলবে। বাকি সময় রেশন দোকান বন্ধ।
মন্ত্রকের ২০২৫–২৬ সালের অ্যাকশন প্ল্যানের ৯ নম্বর পয়েন্টে এই নয়া প্রস্তাব স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। এমনকি ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্য রাজ্যগুলিকে সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের খাদ্যদফতর সূত্রে খবর, কেন্দ্রের এই প্রস্তাব নিয়ে এখনও কোনও মতামত পাঠায়নি রাজ্য। তবে অফিসারদের একাংশের আশঙ্কা, বঙ্গের মতো জনবহুল রাজ্যে, যেখানে বিশাল সংখ্যক মানুষ রেশন পরিষেবার উপর নির্ভরশীল, সেখানে মাত্র দশ দিনের মধ্যে বণ্টন শেষ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
মাসের প্রথম ও শেষদিন, এবং প্রতি সোমবার রেশন বণ্টন বন্ধ থাকে। তার মাঝে আবার উৎসব, ছুটি, আকস্মিক আবহাওয়া, সব মিলিয়ে ‘অসম মডেল’ পশ্চিমবঙ্গে চালু হলে হাজার হাজার গ্রাহকের সঙ্কট তৈরি হতে পারে।
কেন এত তৎপর কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রক?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর পিছনে রয়েছে আরও বড় হিসেব। দীর্ঘদিন ধরেই রেশন ডিলারদের সংগঠন কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়াচ্ছে। তাঁদের দাবি মাসে অন্তত ৫০ হাজার টাকার নিশ্চয়তা।
প্রযুক্তির প্রয়োগে রেশন ব্যবস্থায় এখন অনেক বেশি স্বচ্ছতা এসেছে। ফলে ডিলারদের আয় কমে গিয়েছে। কিন্তু কমিশন বাড়ালে আর্থিক চাপ কেন্দ্রের উপর পড়বে—এমনটাই তাঁদের যুক্তি। তাই তারা চাইছে, বর্ধিত কমিশনের দায়িত্ব পালন করুক রাজ্যগুলি।
সূাত্রের খবর, এ ব্যাপারে কেন্দ্রের পরিকল্পনা হল—রেশন ডিলারদের সামনে বিকল্প আয় তৈরির সুযোগ খুলে দেওয়া। তার জন্যই রেশন দোকানগুলিকে ‘জন পুষ্টি কেন্দ্র’ (Jan Poshan Kendra) হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে।
এখানে ন্যায্য মূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য বিক্রি, সরকারি সেবা প্রদান, বিভিন্ন ছোট পরিষেবা চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় বাড়াতে পারবেন ডিলাররা।
কেন্দ্র চাইছে, ১–১০ তারিখের মধ্যে রেশন বণ্টন শেষ করে বাকি দিনগুলিতে ডিলাররা এই ‘জন পোষণ কেন্দ্র’ চালান। এর ফলে কেন্দ্রের আর্থিক দায় কমবে, আর ডিলারদের বিকল্প আয়ের রাস্তা খুলে যাবে।
সামাজিক কর্মীদের মতে, রেশন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত খাদ্যনিরাপত্তা। রাজ্যবাসীর সুবিধা কমিয়ে কেবল একরকম নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্য সরকারের তরফে যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের শীর্ষ মহলের বক্তব্য, “অসমের মডেল বাংলায় কার্যকর করা যাবে কি না, তা বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত হবে।”