মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেক্সপিয়র সরণি থানা ও সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 January 2026 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের (TMC) পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC ED Raid) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে এ বার তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। একই সঙ্গে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও ইডির তল্লাশি (ED Raid) নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেক্সপিয়র সরণি থানা ও সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার ভোরে। বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ইডির দু’টি দল একযোগে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে (I-PAC Office Raid) পৌঁছয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযোগ, তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সকাল ৯টা নাগাদ প্রথমে থানার এক সার্জেন্ট গেলে তাঁকে বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। এর পরে ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় ঘটনাস্থলে গেলেও তিনিও ভিতরে ঢুকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা সেখানে পৌঁছন। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে লাউডন স্ট্রিটে যান।
অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকের বাড়ি থেকে নথি, ফাইল ও ল্যাপটপ বার করে আনেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে দলের নির্বাচনী কৌশল চুরির অভিযোগ তোলেন। পুলিশের দাবি, তদন্তে বাধা দেওয়ার কারণে বৃহস্পতিবারই ইডির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ দায়ের করেন।
শুক্রবার প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান নেওয়ার কাজ। তল্লাশির সময় যাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ চাইলে প্রতীকের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী ও পরিচারিকার বয়ান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ইডি ঠিক কখন বাড়িতে ঢোকে, তল্লাশি দলে কত জন ছিলেন এবং কী ভাবে অভিযান চালানো হয়— এসব বিষয় খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। সূত্রের মতে, প্রয়োজনে ইডির আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। যদিও সন্দেশখালির ঘটনার মতো এ ক্ষেত্রে ইডির তরফে আলাদা করে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এই ঘটনার রেশ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে। পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তৃণমূল। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে ওই দু’টি মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তুমুল বিশৃঙ্খলার কারণে শুনানি পিছিয়ে যায়। আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলাগুলি মুলতুবি রাখা হয়েছে।